মালদহে ৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও নিয়ে যখন দেশজুড়ে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে, তখন বাংলায় এসে নরেন্দ্র মোদী দাবি করলেন, "অনুপ্রবেশকারীদের পরিচয় যাতে প্রকাশ্যে না-আসে, সেই কারণেই এসআইআরের বিরোধিত...
মালদহে ৭ জন বিচারবিভাগীয় আধিকারিককে ঘেরাও নিয়ে যখন দেশজুড়ে চর্চার বিষয় হয়ে উঠেছে, তখন বাংলায় এসে নরেন্দ্র মোদী দাবি করলেন, "অনুপ্রবেশকারীদের পরিচয় যাতে প্রকাশ্যে না-আসে, সেই কারণেই এসআইআরের বিরোধিতা করছে তৃণমূল"। এবং সেই সঙ্গে মোথাবাড়ির প্রসঙ্গ টেনে তাঁর মন্তব্য, "বিচারকরা যেখানে সুরক্ষিত নেই, সেখানে সাধারণ মানুষের সুরক্ষা থাকবে কী করে"?
প্রকাশ্যে নির্বাচন কমিশনকে বিজেপির দালাল বলে দাবি করেছে তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় থেকে শুরু করে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিয়মিত নির্বাচন কমিশনকে তোপ দেগে চলেছেন। প্রশাসনের শীর্ষস্তরে বদলের-পর-বদল নিয়ে এক্সপোস্ট করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, বিষয়টি নেহাত প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়, চূ়ড়ান্তভাবে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। এই পরিস্থিতিতে কোচবিহার থেকে নরেন্দ্র মোদী কমিশনের উপর আস্থা রেখে ভোটারদের আশ্বস্ত করলেন: এবার অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট হবে।
প্রত্যাশিতভাবেই রাজ্যের শিল্প ও বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন নরেন্দ্র মোদী। তবে এবার তাঁর নিশানায় ১৫ বছরের তৃণমূল শাসন ও ৩৪ বছরের বামশাসনের সঙ্গে উঠে এল কংগ্রেস শাসনের কথাও। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলায় কংগ্রেস সরকার। মাঝে, ১৯৬৭ সালে যুক্তফ্রন্ট ক্ষমতায় এলেও তা বেশিদিন টেকেনি। ওই সময়টুকু বাদ দিলে, ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত তিনদশক বাংলা শাসন করেছে কংগ্রেস। তারপর, ১৯৭৭ থেকে ২০১১ অবধি টানা ৩৪ বছর বামেরা শাসন করেছে বাংলাকে। এবং, তারপর থেকে টানা ১৫ বছর তৃণমূলের শাসন। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, বাংলায় এবার কিন্তু শতাংশের হিসেবে কংগ্রেসের ভোট বাড়তে পারে। একুশের বিধানসভায় মালদহ থেকে কংগ্রেস যে ভোট পেয়েছিল, চব্বিশের লোকসভায় বিধানসভাওয়াড়ি হিসেবে তা অনেকটাই বেড়ে তৃণমূলের বাড়া ভাতে ছাই দিয়েছে। এই প্রবণতা চলতে থাকলে, মালদহে তো বটেই, মুর্শিদাবাদেও কংগ্রেসের ভোট বাড়বে। এবং, শেষ অবধি তা তৃণমূল-বিরোধী ভোটে ভাগ বসিয়ে বিজেপির বাড়া ভাতে ছাই দিতে পারে। সেই কারণেই কি এবার বাংলায় বিধানচন্দ্র রায় ও প্রফুল্ল সেনের সময়কেও টেনে আনলেন মোদী?
আলু থেকে শুরু করে অন্যান্য ফসলের দাম না-পেয়ে বাংলায় কৃষক আত্মহত্যার প্রসঙ্গ আগেই টেনেছিলেন নরেন্দ্র মোদী। এবারও তার ব্যতিক্রম হল না। কৃষি, শিল্প, আইনশৃঙ্খলার সঙ্গে অবধারিতভাবে উঠল অনুপ্রবেশ প্রসঙ্গ। এবং, মোথাবাড়ির ঘটনায় গোটা দেশ শিহরিত বলে দাবি করে নরেন্দ্র মোদীর মন্তব্য, যাতে অনুপ্রবেশকারীদের পরিচয় প্রকাশ্যে না-আসে সেই কারণেই তৃণমূল এসআইআর বিরোধিতা করছে।