অনিশ্চিয়তা কাটিয়ে অবশেষে ট্রাইবুনাল বসল এবং রায় দিল। কলকাতা হাইকোর্টের প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি টিএস শিবজ্ঞানমের প্রথম রায়ে ফরাক্কার কংগ্রেস প্রার্থী মেহতাব শেখ সসম্মানে উত্তীর্ণ হলেন। এসআইআর প্রক্রিয়ায় বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ছিলেন তিনি। তারপর তিনি বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিচারে তিনি উতরোতে পারেননি। এমতাবস্থায়, ট্রাইবুনালের দ্বারস্থ হন তিনি।
দুদিন আগেও, শুক্রবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে ট্রাইবুনাল নিয়ে প্রশ্ন করা হলে ধোঁয়াশায় ঢাকা তাঁর উত্তর ছিল, "চলছে তো, কাজ চলছে। মুখ্য সচিব দেখছেন এটা"।
ব্যস। এর বেশি কিছু এখনও দেখা যায়নি। ট্রাইবুনাল নিয়ে যা দেখা গিয়েছে, তা শুধুই ধোঁয়াশা, আর কিছু নয়। এদিকে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের বেশ কয়েকজন প্রার্থী এখনও বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)। কাউন্ডডাউন শুরু। ২৩ এপ্রিল প্রথম দফা। ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফা। এমতাবস্থায়, স্বাভাবিকভাবেই বেশি চিন্তিত প্রথম দফার সেই প্রার্থীরা, যাঁদের নাম এখনও বিবেচনাধীন রয়েছে।
এমতাবস্থায়, সাধারণ মানুষ তো দূরঅস্ত, এর মধ্যে প্রার্থীরা কীভাবে নিশ্চিত হবেন যে, শেষ অবধি তাঁরা বিবেচনাধীন রয়ে গেলেন নাকি ট্রাইবুনালের রায়ে যোগ্য ভোটার হয়ে উঠলেন।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিষয়টি উঠবে বলে মনে করা হচ্ছে। তাছাড়া গত শুনানির দিন প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাস স্পষ্ট জানিয়েছিল, এর মধ্যেও যদি জটিলতা না-কাটে তাহলে আদালত ফের হস্তক্ষেপ করবে।
দিনরাত এক করে, বাড়িতে শিশু সন্তানকে ফেলে, সপ্তাহে একটাও ছুটি না-নিয়ে কার্যত 'টোয়েন্টি ফোর ইনটু সেভেন' কাজ করে চলেছেন বিচারবিভাগীয় আধিকারিকরা। এমতাবস্থায়, ৬০ লক্ষের মধ্যে কমবেশি ৫২ লক্ষ নাম নিয়ে নিষ্পত্তি করে ফেলেছেন তাঁরা।
পর্যবেক্ষকদের কেউ কেউ এই জটিলতার দায় চাপিয়েছেন রাজ্যের শাসকদল তথা শাসকশিবিরের উপরই। কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরীর কথায়, বৈধ নাম বাদ দিয়ে বৈধ নির্বাচন হতে পারে না, অবাধ নির্বাচন হতে পারে না। এবং, সেইসঙ্গে তাঁর দাবি, "আমরা প্রথম থেকেই এই দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু হঠাৎ দেখলাম, মুখ্যমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্টে সওয়াল করলেন, তারপরই সব বিচারবিভাগের হাতে চলে গেল"।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সুপ্রিম কোর্টের খোদ মুখ্যমন্ত্রীর সওয়াল ও রাজ্যের হয়ে বাঘা-বাঘা আইনজীবীদের সওয়ালের পরিণতিতেই কিন্তু নজিরবিহীনভাবে নিম্ন আদালতের বিচারকদের হাতে নিষ্পত্তির দায়িত্ব দেওয়া হল। নইলে, হয়তো-বা, এত জটিলতা হত না। তথ্যগত অসঙ্গতির প্রশ্নে অনেক নাম নিয়েই আপসে মীমাংসা হয়ে যেত বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। এবং, ভিনরাজ্য থেকে আসা মাইক্রো অবজারভারদের নিয়োগ নিয়ে কমিশনের বিরুদ্ধে যে-তোপ দেগেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তার যুতসই ব্যাখ্যাও কিন্তু দিয়েছিল কমিশন। আদালতে কমিশন জানিয়েছিল, রাজ্য সরকারের কাছে যে-পদমর্যাদার আধিকারিক চাওয়া হয়েছে, তারা কিন্তু তা দেয়নি। অগত্যা ভিনরাজ্য থেকে পর্যবেক্ষক আনতে হয়েছে।
এই মহাবিতর্কের মাঝেই রবিবার সুসংবাদ এল। ট্রাইবুনাল তার প্রথম রায়েই সংখ্যালঘু প্রার্থীকে বৈধ ভোটার হিসেবে ঘোষণা করলেন। যার রাজনৈতিকভাবে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।