ভোট ঘোষণা কবে হবে তা এখনও অনিশ্চিত। এমতাবস্থায়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরে আসছে ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। মার্চেই প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই রাজ্যে আসছে ৪৮০ কোম্...
ভোট ঘোষণা কবে হবে তা এখনও অনিশ্চিত। এমতাবস্থায়, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর গড় বলে পরিচিত পূর্ব মেদিনীপুরে আসছে ১৪ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী।
মার্চেই প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই রাজ্যে আসছে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। দুই দফায় বাহিনী আসবে রাজ্যে। ১ মার্চ রাজ্যে আসছে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। ১০ মার্চ আসছে বাকি ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। ৪৮০ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে থাকছে সিআরপিএফ ২৩০ কোম্পানি, বিএসএফ ১২০ কোম্পানি, সিআইএসএফ ৩৭ কোম্পানি, আইটিবিপি ৪৭ কোম্পানি ও এসএসবি ৪৬ কোম্পানি।
কোথায় কত কোম্পানি?
জেলা ও পুলিস জেলা মিলিয়ে
দার্জিলিং ৬
শিলিগুড়ি ৩
কালিম্পং ৩
কোচবিহার ৯
আলিপুরদুয়ার ৫
জলপাইগুড়ি ৭
ইসলামপুর ৫
রায়গঞ্জন ৬
দক্ষিণ দিনাজপুর ১০
মালদহ ১২
মুর্শিদাবাদদ ৮
জঙ্গিপুর ৮
কৃষ্ণনগর ৬
রানাঘাট ৬
হাওড়া ৭
হাওড়া (গ্রামীণ) ৮
হুগলি (গ্রামীণ) ৬
চন্দননগর ৮
কলকাতা ১২
বারাসত ৬
বনগাঁ ৬
বসিরহাট ৭
ব্যারাকপুর ৯
বিধাননগর ৪
বারুইপুর ৫
ডায়মন্ড হারবার ৬
সুন্দরবন ৪
পূর্ব মেদিনীপুর ১৪
পূর্ব বর্ধমান ৮
এডিপিসি ৭
(আসানসোল-দুর্গাপুর)
পশ্চিম মেদিনীপুর ৭
ঝাড়গ্রাম ৫
বাঁকুড়া ৭
পুরুলিয়া ৫
বীরভূম ৭
কমিশন-সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাহিনীকে যাতে নিষ্ক্রিয় করে রাখা না-হয়, তা নিয়ে এখন থেকেই সতর্ক দিল্লির নির্বাচনী সদন। জানা গিয়েছে, সরাসরি কাজে পাঠাতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। কোন ভাবেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা যাবে না। এবং সেই মর্মে রাজ্যকে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন।
রাজ্যে ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়নের প্রেক্ষিতে শাসক বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের হাতে যদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকে, তাবেই কাজ হবে। আর বাহিনী রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলে, কখনওই কাজ করতে পারবে না। অন্যদিকে লোকসভার ভোট হোক কি বিধানসভার ভোট, বাহিনী নিয়ে প্রশ্ন তোলে শাসকদল। শুধু তা-ই নয়। পর্যবেক্ষকরা বলেন, কখনও কখনও ভোট কর্মীরাও কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোট করাতে নারাজ হন, নিরাপত্তার প্রশ্নে। এমতাবস্থায়, কোন কৌশলে বাহিনীকে সক্রিয় করবে কমিশন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
গত সোমবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। ওই বৈঠকেই কমিশন প্রশ্ন তুলেছে, ভোটের এতদিন আগে এসে বাহিনী কি বসে থাকবে? কমিশনের নির্দেশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী আসা মাত্রই তাদের সরাসরি ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দিতে হবে। যদিও, কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে তা নিয়ে অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ধরে নেওয়া হচ্ছে, স্পর্শকাতর জায়গায় বাহিনীকে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে জিপিএস থাকবে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করবে বাহিনীর গতিবিধি। বৈঠকের পর রাজ্য পুলিশের ডিজি জানিয়েছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, নির্বিঘ্নেই নির্বাচন হবে।