ক্যামেরার তার কেটে দেওয়া, ক্যামেরা মুখে চুনকাম, এসব রুখতে এবার ওয়েবকাস্টিংকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন, আর তাই নিয়ে একাধিক পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন মুখ্য নির্বাচন...
ক্যামেরার তার কেটে দেওয়া, ক্যামেরা মুখে চুনকাম, এসব রুখতে এবার ওয়েবকাস্টিংকে বাড়তি গুরুত্ব দিতে চাইছে নির্বাচন কমিশন, আর তাই নিয়ে একাধিক পদক্ষেপও গ্রহণ করা হয়েছে। সাংবাদিক বৈঠকে জানালেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল। ভোটের সময় সরাসরি নজরদারি চালাবে কমিশন। 'নজরদারি চালাবেন জেলা নির্বাচনী আধিকারিকও। স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক। আর এতেই স্পষ্ট কমিশনের লক্ষ্য স্বচ্ছ ও হিংসামুক্ত নির্বাচন, তাই ওয়েব কাস্টিংকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। এছাড়া প্রতিটি বুথের ভিতরে ও বাইরে বসানো হবে সিসি ক্যামেরা। ক্যামেরার মাধ্যমে চলবে মনিটারিং। যেখানে একটা ক্যামেরা দিয়ে নজরদারি চালানো যাবে না সেখানে ২টো ক্যামেরা বসানো হবে। জানালেন CEO।
এছাড়াও থাকছে কন্ট্রোল রুম। জেনারেল অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত জানান, যখন থেকে মক পোল শুরু হবে, তখন থেকেই চলবে মনিটরিং। এটা হবে ত্রিস্তরীয় মনিটরিং। প্রথম নজরদারি করবেন রিটার্নিং অফিসার। অর্থাৎ, সাব-ডিভিশনাল অফিসার বা অ্যাডিশনাল ডিএম থাকবেন এর দায়িত্বে। এরপরের স্তর জেলার নির্বাচনী আধিকারিক বা DEO। আর সব শেষে থাকবেন CEO অফিসে। এই সব আধিকারিকদের অফিসে কন্ট্রোলরুম তৈরির কাজ চলছে জোরকদমে। এ ছাড়াও কন্ট্রোল রুমে সিসিটিভির ভিডিও রেকর্ডিং করা হবে।
অবজার্ভার সুব্রত গুপ্ত বলেন, মোট ৭২টা স্ক্রিন বসতে চলেছে CEO অফিসে। এক-একটা স্ক্রিনে একসঙ্গে ১২ থেকে ১৬টা বুথে নজর রাখা যাবে। প্রতি স্ক্রিনের সামনে ২ জন করে মাইক্রো অবজার্ভার থাকবেন। একজন স্ক্রিনে নজর রাখবেন ও অন্যজন নোট করবেন যে কোথায় কেমন নির্বাচন চলছে। অর্থাৎ নজরদারিতে কোনওরকম ফাঁক রাখতে চাইছে না কমিশন, সেকথাই কার্যত বুঝিয়ে দিলেন সুব্রত গুপ্ত।
এর বাইরেও থাকবে ফ্লাইং স্কোয়াড। অর্থাৎ তাদের বিভিন্ন গাড়িতে লাগানো থাকবে ক্যামেরা। চেকপোস্ট ও ক্যুইক রেসপন্স টিমের গাড়িতেও থাকবে ক্যামেরা। কোনও প্রযুক্তিগত গোলমাল বা কোনও ঝামেলা হলে ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে সেই জায়গায় পৌঁছে যাবে ক্যুইক রেসপন্স টিম। রাজ্যে মোট ১ হাজার ৭৪০ টি নাকা বা চেকপোস্টও তৈরি করা হবে। ইতিমধ্যেই রাজ্যের ৩ লক্ষের বেশি ইভিএম ও ভিভিপ্যাট মেশিন পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে। আর এই পরীক্ষার ভিডিও রেকর্ডও করা হয়েছে।
জানা যাচ্ছে, ২লক্ষের বেশি ক্যামেরা থাকবে বুথ গুলিতে। যদি কোথাও বুথ ক্যাপচার হয় সেখানেও রিপোল করা হবে। নির্বাচনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি যদি সঠিক ভাবে কাজ না করেন সেক্ষেত্রে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যদি কোনও ভোটারকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয় সেক্ষেত্রেও বুথ ক্যাপচার বলেই ধরা হবে। কোনওরকম সন্দেহজনক কিছু ঘটলেই রিপোল হবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে কমিশনের তরফে। শুধুমাত্র প্রিসাইডিং অফিসারের কাছেই থাকবে মোবাইল ফোন। ভোটের দায়িত্বে থাকা অন্য কেউ ফোন ব্যবহার করতে পারবেন না। সব মিলিয়ে ফ্রি অ্যান্ড ফেয়ার ইলেকশান করতে বদ্ধপরিকর ইলেকশন কমিশন।