ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি নতুন কিছু নয়। কিন্তু বারংবার দেখা গিয়েছে, নির্বাচনের সময়ে বাহিনী কার্যত নিষ্ক্রিয় থেকেছে এবং রাজ্য পুলিস যেভাবে যে-পথ দেখিয়েছে সেই পথে হেঁটেছে তারা। অতীতের এই অভিজ্ঞতা থেকেই কি এবার আগে থেকেই সতর্ক নির্বাচন কমিশন?
কমিশন-সূত্রে জানা যাচ্ছে, বাহিনীকে যাতে নিষ্ক্রিয় করে রাখা না-হয়, তা নিয়ে এখন থেকেই সতর্ক দিল্লির নির্বাচনী সদন। জানা গিয়েছে, সরাসরি কাজে পাঠাতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। কোন ভাবেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা যাবে না। এবং সেই মর্মে রাজ্যকে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন।
রাজ্যে ভোটের আগে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়নের প্রেক্ষিতে শাসক বিরোধীদের মধ্যে ব্যাপক তরজা শুরু হয়েছে। বিজেপির বক্তব্য, নির্বাচন কমিশনের হাতে যদি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ থাকে, তাবেই কাজ হবে। আর বাহিনী রাজ্যের নিয়ন্ত্রণে থাকলে, কখনওই কাজ করতে পারবে না। অন্যদিকে লোকসভার ভোট হোক কি বিধানসভার ভোট, বাহিনী নিয়ে প্রশ্ন তোলে শাসকদল। শুধু তা-ই নয়। পর্যবেক্ষকরা বলেন, কখনও কখনও ভোট কর্মীরাও কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া ভোট করাতে নারাজ হন, নিরাপত্তার প্রশ্নে। এমতাবস্থায়, কোন কৌশলে বাহিনীকে সক্রিয় করবে কমিশন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
প্রসঙ্গত, মার্চেই প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই রাজ্যে আসছে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। দুই দফায় বাহিনী আসবে রাজ্যে। ১ মার্চ রাজ্যে আসছে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। ১০ মার্চ আসছে বাকি ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। ৪৮০ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে থাকছে সিআরপিএফ ২৩০ কোম্পানি, বিএসএফ ১২০ কোম্পানি, সিআইএসএফ ৩৭ কোম্পানি, আইটিবিপি ৪৭ কোম্পানি ও এসএসবি ৪৬ কোম্পানি।
গত সোমবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। ওই বৈঠকেই কমিশন প্রশ্ন তুলেছে, ভোটের এতদিন আগে এসে বাহিনী কি বসে থাকবে? কমিশনের নির্দেশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী আসা মাত্রই তাদের সরাসরি ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দিতে হবে। যদিও, কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে তা নিয়ে অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ধরে নেওয়া হচ্ছে, স্পর্শকাতর জায়গায় বাহিনীকে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে জিপিএস থাকবে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করবে বাহিনীর গতিবিধি। বৈঠকের পর রাজ্য পুলিশের ডিজি জানিয়েছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, নির্বিঘ্নেই নির্বাচন হবে।
এই পরিস্থিতিতে, নির্বাচন কমিশনের বাহিনী মোতায়েন নিয়ে বিজেপি নেতা সজল ঘোষ বলেন, “প্রথম কথা হল কমিশনের যদি আজও চোখ না ফোটে, তাহলে আর কোনওদিনই ফুটবে না। রাজ্য সুপ্রিম কোর্টেরই নির্দেশ মানছে না, তাহলে কমিশনের কথা কেন শুনবে? একটা বিষয় খুব স্পষ্ট, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পরিচালনার দায়িত্ব যদি রাজ্য সরকারের হাতে থাকে, তাহলে সেই বাহিনী হাজারদুয়ারি দেখবে, ভাগীরথী দেখবে। কিন্তু কোনও কাজ হবে না। বাহিনীকে নির্বাচন কমিশনের নিয়ন্ত্রণে রেখে কাজ করাতে হবে।” তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারের দাবি, “মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য সেনা, আধাসামরিক বাহিনী নিয়ে আসা হচ্ছে। এখন সৈন্য নামিয়ে মানুষকে সন্ত্রস্ত করার চেষ্টা করবে বিজেপি।”