ফাঁসিদেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী মহিলাকে মারধরের অভিযোগ! নির্যাতনের জেরে তাঁর গর্ভস্থ্য় শিশুর মৃত্যু হয় বলেও জানা যায়। এই ঘটনায় অভিযোগের তীর ওঠে এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে। এবার সেই ঘটনার প্রতিবাদ...
ফাঁসিদেওয়ায় অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী মহিলাকে মারধরের অভিযোগ! নির্যাতনের জেরে তাঁর গর্ভস্থ্য় শিশুর মৃত্যু হয় বলেও জানা যায়। এই ঘটনায় অভিযোগের তীর ওঠে এক সিভিক ভলেন্টিয়ারের বিরুদ্ধে। এবার সেই ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন উত্তরবঙ্গের একাধিক আদিবাসী সংগঠন। বিক্ষোভকারীদের মিছিল আটকাতে জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস প্রয়োগ করে পুলিস। তারপরেও পুলিসের ব্যারিকেড ভেঙে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা বিক্ষোভকারীরা। গোটা ঘটনাকে কেন্দ্র করে তুমুল উত্তেজনা ছড়ায় এলাকায়। কার্যত সঙ্গে খণ্ডযুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন বিক্ষোভকারীরা। পরে পুলিসের বাধা পেয়ে টায়ার জ্বালিয়ে, জাতীয় পতাকা নিয়ে এগোতে শুরু করে আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ।
জানা যাচ্ছে, এই ঘটনার সূত্রপাত ২০২৫ সালের ডিসেম্বর মাসে। ওই সময় ফাঁসিদেওয়ার ঝমকলাল জোট এলাকায় জমি বিবাদকে কেন্দ্র করে দুই গোষ্ঠীর সংঘর্ষ বাদে। আদিবাসীদের জমি জোরপূর্বক দখল করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে। সেই সময় জমি অধিগ্রহণে বাধা দিতে এলাকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষের উপর চড়াও হয় পুলিস। বেধড়ক মারধর করা হয় এক অন্তঃসত্ত্বা আদিবাসী মহিলাকেও। যার জেরে মৃত্যু হয় তাঁর গর্ভস্থ্য় শিশুর। এরপরেই মহিলার পরিবারের পক্ষ থেকে এক সিভিক ভলেন্টিয়ার-সহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফাঁসিদেওয়া থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে গ্রেফতার করা হয় অভিযুক্ত ভলেন্টিয়ারকে।
তবে এখনও বাকি অভিযুক্তরা অধরা বলে অভিযোগ পরিবারের তরফে। এই অবস্থায় আজ, বাকি অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতারির দাবিতে শিলিগুড়ির জলপাই মোড় থেকে উত্তরকন্যা অভিযানের ডাক দেওয়া হয় জনজাতি সুরক্ষা মঞ্চের তরফে। কিন্তু সেই অভিযান শুরু হতেই রণংদেহি রূপ ধারণ করে পুলিস। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে ব্যবসার হয় জল কামান ও টিয়ার গ্যাস। অল্প বিস্তর লাঠিচার্জ করা হয় বলেও খবর। এদিন বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে মিছিলে পা মিলিয়েছিলেন ফাঁসিদেওয়ার বিজেপি বিধায়ক দূর্গা মুর্মু ও ডাব গ্রাম ফুলবাড়ীর বিধায়ক শিখা চ্যাটার্জী। তাঁরা দু'জনেই আজকের ঘটনায় পুলিসের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।