দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে শাসক দলের নেতার বিরুদ্ধে দূর্ণীতির অভিযোগ তুলে সরব হল দলেরই কর্মীরা। লাগানো হল পোস্টারও! অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা জেলা পর...
দোরগোড়ায় বিধানসভা নির্বাচন। আর তার আগে শাসক দলের নেতার বিরুদ্ধে দূর্ণীতির অভিযোগ তুলে সরব হল দলেরই কর্মীরা। লাগানো হল পোস্টারও! অভিযোগের আঙুল উঠেছে তৃণমূলের প্রাক্তন সাংগঠনিক জেলা সভাপতি তথা জেলা পরিষদের কর্মাধ্যক্ষ আশিস হুদাইতের বিরুদ্ধে। শুক্রবার সকালে ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় এলাকায়। নির্বাচনের আগে এহেন ঘটনায় অস্বতিতে পড়েছে শাসক শিবিরও।
জানা যাচ্ছে, এদিন সকালে দাসপুর বিধানসভা এলাকায় আচমকা পোস্টারিং ঘিরে রাজনৈতিক মহলে প্রবল চাঞ্চল্য ছড়ায়। এলাকার বিভিন্ন দেওয়ালে আশিস হুদাইতকে বিধায়ক পদ থেকে বহিষ্কার করা হোক দাবি জানিয়ে সেই পোস্টার ছাপানো হয় বলে অভিযোগ। এমনকি তাঁকে 'চরিত্রহীন' বলেও উল্লেখ করা হয় ওই পোস্টারে। পাশাপাশি দেওয়া হয় 'বালি মাফিয়া' তকমাও।
তবে নির্বাচন ঘোষণার আগেই শাসক দলের নেতার বিরুদ্ধে এহেন পোস্টার ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। এই বিষয়ে এলাকার বাম নেতা রঞ্জিত পাল বলেন, 'তৃণমূলের এই নেতার দুর্নীতির খবর গোটা এলাকার মানুষজন জানেন। আমরাও বিভিন্ন সময়ে তথ্য জোগাড় করে জনসমক্ষে তা বলেছি। দলটা আসলে তোলাবাজির ওপরই টিকে রয়েছে।' একইসঙ্গে ঘটনাকে হাতিয়ার করে সুর চড়িয়েছে বিজেপিও। এলাকার বিজেপি সাংগঠনিক সম্পাদক তপন মাইতির অভিযোগ, 'এলাকায় যত রকম দুর্নীতি হয়, যতরকম সন্ত্রাস হয় তার নেপথ্যে আশিস হুদাইতের মদত রয়েছে। এটা এলাকার প্রতিটি মানুষ জানেন।' তাঁর আরও অভিযোগ, 'মাত্র কয়েক বছর পদে এসে যে পরিমাণ সম্পত্তি উনি করেছেন তা অবাক হওয়ার মতো।'
যদিও এইসমস্ত দাবি নসাৎ করেছেন দাসপুর তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি তথা দাসপুর ১ পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি সুকুমার পাত্র। তাঁর বক্তব্য, ওই তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে যদি সত্যি কোন অভিযোগ থাকে তাহলে তা প্রশাসনের কাছে গিয়ে বলা হোক। প্রশাসন বিচার করবে। পাশাপাশি এইভাবে কারোর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা উচিত না বলেও মনে করছেন তিনি।
প্রসঙ্গত তৃণমূলের ওই নেতার বিরুদ্ধে বিরোধীরা তো বটেই, দলের অভ্যন্তরেও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন একাধিক কর্মীরা। উঠেছে দুর্নীতির অভিযোগও। অন্যদিকে কয়েক মাস আগেই পকসো আইনের মামলা রুজু হয়েছিল তাঁর বিরুদ্ধে। বর্তমানে তিনি জামিনে মুক্ত রয়েছেন।