'মোটাভাই জবাব চাই', তৃণমূলের পাল্টা চার্জশিট। অমিত শাহকে 'ক্লাউন' বলে খোঁচা। এবং, শেক্সপিয়ারের নাটকের সংলাপ, 'বিচারক ও দাগি আসামী একই আসনে'।
বিজেপির চার্জশিট
পূর্ব নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী রাজ্যের তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে বাংলার মাটি থেকেই এদিন চার্জশিট পেশ করেছেন বিজেপির সর্বভারতীয় 'সেনাপতি' অমিত শাহ। এবং, সেই চার্জশিটের সিংহভাগ জুড়ে ছিল রাজ্যে মহিলাদের আক্রান্ত হওয়ার প্রসঙ্গ, আরজিকর থেকে কামদুনির প্রসঙ্গ।
পাল্টা তৃণমূলের চার্জশিট
কয়েকঘণ্টার মধ্যে বিজেপির বিরুদ্ধে পাল্টা চার্জশিট দিতে তৃণমূল ভবনের সাংবাদিক বৈঠক করলেন ব্রাত্য বসু ও মহুয়া মৈত্র। তৃণমূলের চার্জশিটে 'মোটাভাই' বলে যে অমিত শাহকেই সম্বোধন করা হল, তা বুঝতে অসুবিধে হল না পর্যবেক্ষকদের। এবং, ব্রাত্য ও মহুয়া দুজনেই তুরস্কের একটি প্রবাদ বাক্য উদ্ধৃত করে বললেন, রাজপ্রাসাদের প্রবেশ করলেই ক্লাউন কখনও রাজা হয়ে যায় না, বরং, ওই প্রাসাদ সার্কাসে পরিণত হয় (When a clown moves into a palace, he doesn't become a king, the palace becomes a circus)। এবং, নির্দ্বিধায় অমিত শাহকেই 'ক্লাউন' বলে কটাক্ষ করলেন ব্রাত্য ও মহুয়া।
ব্রাত্য ও শেক্সপিয়ার
নাট্যকার-রাজনীতিক ব্রাত্য বসু প্রথমেই শেক্সপিয়ারের নাটক থেকে সংলাপ উদ্ধৃত করে বললেন, "অমিত শাহ চার্জশিট দিচ্ছেন তৃণমূলকে, এটা দেখে আমার উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের জুলিয়াস সিজার নাটকের তৃতীয় অঙ্কের দ্বিতীয় দৃশ্যের সংলাপের কথা মনে পড়ে যাচ্ছে, 'বিচারক এবং দাগি আসামি যখন একই আসনে বসে'। আজকের এই ঘটনা (চার্জশিট দেওয়া) সে কথাই মনে করাচ্ছে"।
কেন?
অমিত শাহকে তাঁর অতীতের কথা মনে করিয়ে দিয়ে ব্রাত্য বললেন, "গুজরাতের প্রাক্তন গৃহমন্ত্রী হরেন পাণ্ডিয়া কার কাছে চার্জশিট চাইবেন? কার কাছে চার্জশিট চাইবেন বিচারক বৃজভূষণ লোয়ার? এরা আজ পৃথিবীতে নেই। আদালত কাকে যেন বলেছিল তাড়িপার? আপনি (অমিত শাহ) এখানে এসে তৃণমূলকে চার্জশিট দিচ্ছেন, বলছেন, নারী সুরক্ষা নেই। আপনার দফতরের (ন্যাশানাল ক্রাইম ব্যুরো) রিপোর্ট বলছে, নারী সুরক্ষায় সবচেয়ে বেশি অসুরক্ষিত রাজ্য হচ্ছে উত্তরপ্রদেশ। দ্বিতীয় হচ্ছে মহারাষ্ট্র। এবং তৃতীয় হচ্ছে রাজস্থান। তিনটেই বিজেপি শাসিত রাজ্য। সীমান্তকে সম্পূর্ণ অসুরক্ষিত রেখেছেন। বলছেন, জনবিন্যাস পাল্টে গেছে। কাদের জন্য পাল্টালো? জনবিন্যাস পাল্টে গেছে মানে কী? জনবিন্যাস ঠিক করার জন্য কী করতে হবে? এ রাজ্যে আর একটা গুজরাত (দাঙ্গা) ঘটাতে হবে? মণিপুর নিয়ে একটা কথাও বলছেন না কেন? উন্নাও, হাথরাস নিয়ে চুপ কেন"?
পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ২০০২ সালে গুজরাতে যে-দাঙ্গা হয়, তা নিয়ে সেই তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে গৃহ (স্বরাষ্ট্র) মন্ত্রী হরেন পাণ্ডিয়ার বাদ-বিবাদ হয়। পাণ্ডিয়া অনেক কিছুর সাক্ষী থাকেন। এবং, পরেরবছর, ২০০৩ সালে খুন হন তিনি।
বৃজভূষণ লোয়ার ছিলেন বিচারক। ভুয়ো এনকাউন্টার সংক্রান্ত মামলায় অমিত শাহ অভিযুক্ত হন। যে-আদালতে বিচার হয় শাহের, তার বিচারক ছিলেন লোয়ার। আচমকা রহস্যজনক মৃত্যু হয় ওই বিচারকের। এখনও পর্যন্ত সেই রহস্য রহস্যই থেকে যায়। প্রসঙ্গত, ওই সময়ের আশেপাশেই, অমিত শাহকে 'তাড়িপার' বা পলাতক আসামি বলে অভিহিত করে আদালত।