কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা। তাঁদের সঠিক সংখ্যা ...
কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদাম ভেঙে পড়ার ঘটনায় সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে গেলেও ধ্বংসস্তূপের নীচে এখনও বেশ কয়েক জন আটকে রয়েছেন বলে আশঙ্কা। তাঁদের সঠিক সংখ্যা এখনও জানা না গেলেও, লোহা ও কংক্রিটের বিশাল স্তূপের নীচ থেকে ভেসে আসছে মানুষের আর্তনাদ। সেই শব্দই উদ্ধারকর্মীদের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শক্তি জোগাচ্ছে। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে সেনাবাহিনী। আগে থেকেই সেখানে রয়েছে দমকল, এনডিআরএফ এবং কলকাতা পুলিশের বিশেষ উদ্ধারকারী দল। উদ্ধারকাজে গতি আনতে ব্যবহার করা হচ্ছে একাধিক ভারী ক্রেন। এমনকি ৫০ টন ওজন তুলতে সক্ষম হাইড্রোলিক ক্রেনও আনা হয়েছে, যাতে ভেঙে পড়া কাঠামোকে স্থিতিশীল রেখে ভিতরে আটকে থাকা শ্রমিকদের উদ্ধার করা যায়।
প্রাথমিক অনুমান, প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে তৈরি হচ্ছিল এই গুদাম। ভিতরে কোনও আলাদা দেওয়াল বা বিভাজন না থাকায় ছাদ ধসে পড়তেই গোটা কাঠামো একসঙ্গে ভেঙে পড়ে। প্রথমে পিছন দিক দিয়ে মাটি কেটে ভিতরে ঢোকার চেষ্টা করা হলেও সফল হওয়া যায়নি। পরে হাইড্রোলিক মই ব্যবহার করে উপরের দিক থেকে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হয়। তবে কংক্রিটের মোটা স্তর ও লোহার বিম উদ্ধারকারীদের কাজে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তবুও হাল ছাড়েননি উদ্ধারকর্মীরা। কাঠামোর কয়েকটি অংশ ছিদ্র করে ভিতরে বাতাস পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেই সঙ্গে আধুনিক যন্ত্রের সাহায্যে আটকে থাকা শ্রমিকদের অবস্থান চিহ্নিত করার কাজও চলছে। এখনও পর্যন্ত ধ্বংসস্তূপের নীচ থেকে ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের গুরুতর জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাকিদের খোঁজে নামানো হয়েছে স্নিফার ডগ। রাতভর উদ্ধার অভিযান চালানোর প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে। সেই কারণে ঘটনাস্থলে আনা হয়েছে বড় জেনারেটর, তৈরি করা হচ্ছে অস্থায়ী মেডিক্যাল ক্যাম্প। একাধিক অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে উদ্ধার হওয়া মাত্র আহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ও ইন্দ্রনীল খাঁ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও ঘটনাস্থলে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন। পাশাপাশি কলকাতা পুরসভার পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডে, কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ-সহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ আধিকারিক উদ্ধারকাজের তদারকি করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় দেড় বছর ধরে গুদামটির নির্মাণকাজ চলছিল। বুধবার দুপুরে আচমকাই কয়েক তলা সমান উঁচু ছাদটি ধসে পড়ে। স্থানীয়দের দাবি, সকাল থেকেই কাঠামোয় অস্বাভাবিক নড়াচড়া দেখা যাচ্ছিল। কয়েক জন শ্রমিক বিষয়টি পরীক্ষা করতে যেতেই মুহূর্তের মধ্যে ভেঙে পড়ে বিশাল ছাদ, আর তার নীচেই চাপা পড়ে যান বহু মানুষ। এখনও ধ্বংসস্তূপের নীচে জীবন-মৃত্যুর লড়াই চলছে। আর উপরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা কেউ বাবা, কেউ স্বামী, কেউ ছেলের ফেরার আশায়। তারাতলার আকাশে এখন একটাই প্রার্থনাধ্বংসস্তূপ ভেদ করে ফিরুক আরও কয়েকটি প্রাণ।