বর্ষা শুরু হতেই মাথাচারা দিয়েছে ডেঙ্গির প্রকোপ। জেলায় জেলায় বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্য়া। স্বাস্থ্য় ভবনের তথ্য় অনুযায়ী, জলপাইগুড়ির মাল, মাটিয়ালি, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ও রঘুনাথগঞ্জের দু'নম্বর ব্লকে আচমকা...
বর্ষা শুরু হতেই মাথাচারা দিয়েছে ডেঙ্গির প্রকোপ। জেলায় জেলায় বেড়েছে আক্রান্তের সংখ্য়া। স্বাস্থ্য় ভবনের তথ্য় অনুযায়ী, জলপাইগুড়ির মাল, মাটিয়ালি, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি ও রঘুনাথগঞ্জের দু'নম্বর ব্লকে আচমকা ভয়াবহ ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি ভয় ধরাচ্ছে শহর কলকাতার পরিসংখ্য়ানও। সূত্রের খবর, অগাস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত ডেঙ্গি আক্রান্তের নিরিখে রয়েছে কলকাতার নাম।
রাজ্য়ে বর্ষায় ডেঙ্গির প্রকোপ নতুন না। ফি বছর মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হন বহু মানুষ। মৃত্য়ুও হয় অনেকের। আর প্রায় প্রতি বছরই এই রোগ মোকাবিলা করতে আগাম প্রস্তুতি নেয় সরকার। কিন্তু তারপরেও গলদ থেকেই যায়। রাজ্য় স্বাস্থ্য় দফতর সূত্রে খবর, জলপাইগুড়ির মাল, মাটিয়ালি, মুর্শিদাবাদের জলঙ্গি, রঘুনাথগঞ্জের দু-নম্বর ব্লক, পূর্ব বর্ধমানের ভাতার, পূর্বস্থলি ১ নম্বর ব্লক, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙর ১, ২ এবং নদিয়া জেলার তেহট্ট ও চাকদহে আচমকা ডেঙ্গির প্রাদুর্ভাব বেড়েছে। অন্য়দিকে পরিসংখ্য়ান অনুযায়ী অগাস্টের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত আক্রান্তের নিরিখে রয়েছে কলকাতা (২৬৪), দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ভাঙড়-২ (৮৬), তৃতীয় হাওড়া (৭৮), চতুর্থ পূর্বস্থলি-১ (৬৭) ও পঞ্চমে রয়েছে আসানসোল (৬৫)।
সূত্রের খবর, রাজ্য়ে এখনও পর্যন্ত ডেঙ্গির কারণে মৃত্যু হয়েছে মোট ৭ জনের। ডেঙ্গি পজিটিভ রোগীর মৃত্যু ধরলে সংখ্যাটা ১০। স্বাস্থ্য ভবনের তথ্য বলছে, অগাস্টের ১৯ তারিখ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছাড়িয়েছে ৪,০৩৫। আক্রান্তের হার ০.৭ শতাংশ। গত বছর এই সময় (বছরের প্রথম ৩৩ সপ্তাহ) আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৬,৪৮৮ জন। আক্রান্তের হার ছিল ১.০ শতাংশ। ২০২৫ সালের তুলনায় এ বছর আক্রান্তের হার আপাতদৃষ্টিতে কম বলে মনে হলেও টেস্টের সংখ্যা গত বছরের নিরিখে এ বছর কম। ২০২৫ সালে ডেঙ্গির কারণে মৃত্যু হয়েছিল ১৯ জনের।
চিকিৎসক মহলের মতে, ডেঙ্গি ভাইরাসের চারটি সেরোটাইপের মধ্যে এ বছরও 'ডেন-২’এর আধিক্য বেশি। একেবারে গোড়ায় সতর্ক না হলে ডেন-২ বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে। বিশেষত যে সকল ব্যক্তি দ্বিতীয় বার ডেঙ্গিতে আক্রান্ত হচ্ছেন তাঁদের জন্য ডেন-২ হল মারাত্মক।
বলে রাখা ভালো, ডেঙ্গির পাশাপাশি ম্যালেরিয়ার ক্ষেত্রেও নজরদারি জোরদার করা হচ্ছে। রাজ্যে অবশ্য দীর্ঘমেয়াদে ম্যালেরিয়ার প্রকোপ কমেছে। সরকারি পরিসংখ্যানে, ২০২৪-এ বাংলায় ম্যালেরিয়া আক্রান্ত ছিলেন ১৯,৮৪০ জন। এর মধ্যে ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত ছিলেন ৩,৫৯২ জন। এ বছর সেখানে ৩১ জুলাই পর্যন্ত মোট ম্যালেরিয়া আক্রান্তের সংখ্যা ৫,৫০২, যার মধ্যে ফ্যালসিপেরাম ম্যালেরিয়ার শিকার ১,০৬২ জন। তবে চলতি বর্ষায় ম্যালেরিয়াকে একেবারে হিসেবের বাইরে রাখছেন না চিকিৎসকরা। কলকাতা পুরসভাও ৫৯টি ম্যালেরিয়া ডিটেকশন-কাম-ট্রিটমেন্ট সেন্টারের মাধ্যমে টেস্ট ও চিকিৎসা চালু রেখেছে।