মণি ভট্টাচার্য: রাজনীতিতে সবাই সুযোগ-সুবিধা বা অর্থনৈতিক লাভের জন্য আসেন না, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের সরকারি তহবিল থেকে স্ত্রীর প্রসবের বিল নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এমনই কড়া আক্রম...
মণি ভট্টাচার্য: রাজনীতিতে সবাই সুযোগ-সুবিধা বা অর্থনৈতিক লাভের জন্য আসেন না, প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক কাঞ্চন মল্লিকের সরকারি তহবিল থেকে স্ত্রীর প্রসবের বিল নেওয়ার প্রসঙ্গ টেনে এমনই কড়া আক্রমণ শানালেন ভাতাড়ের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ পোস্টে তিনি দাবি করেন, তাঁর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের বিপুল বেসরকারি হাসপাতালের বিল তিনি ব্যক্তিগত সামর্থ্যেই মিটিয়েছেন, বিধায়ক হওয়া সত্ত্বেও সরকারের একটি পয়সাও নেননি।
সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক তথা অভিনেতা কাঞ্চন মল্লিক তাঁর স্ত্রীর সন্তান প্রসবের জন্য প্রায় সাড়ে ৬ লক্ষ টাকার সরকারি মেডিক্যাল বিল রিইম্বারসমেন্ট নেওয়া নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তীব্র বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেই প্রসঙ্গ টেনেই সামাজিক মাধ্যমে সরব হয়েছেন সৌমেন কার্ফা।
ফেসবুক পোস্টে তিনি স্পষ্ট ভাষায় লেখেন, রাজনীতিতে এখনও এমন বহু মানুষ আছেন যাঁরা আদর্শ, জাতীয়তাবাদ ও সমাজসেবার তাগিদে নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে কাজ করেন। সবাইকে এক পাল্লায় মাপা অনুচিত। তিনি লেখেন, "আমার স্ত্রীর সন্তান প্রসবের সময় কলকাতার একটি বেসরকারি নার্সিংহোমে কয়েক লক্ষ টাকার বিল আমি বিধায়ক হিসেবে সরকারি অর্থ থেকে নিইনি। আমি আমার ব্যবসায়িক ও পারিবারিক সামর্থ্য থেকেই সেই খরচ মিটিয়েছি।"
নিজের এই সিদ্ধান্তের পেছনে যুক্তি তুলে ধরে তিনি আরও জানান, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর সরকারি সুযোগ-সুবিধা ত্যাগ করার আদর্শ তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছে। পাশাপাশি রাজ্যের বর্তমান বিপুল আর্থিক দেনার কথা মাথায় রেখেই তিনি সরকারি কোষাগারের উপর বাড়তি বোঝা চাপাতে চাননি। তাঁর কথায়, "আমার অর্থনৈতিক সামর্থ্য রয়েছে। তাই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা হিসেবে সরকারের করের টাকা যাতে খরচ না হয়, সেই কারণেই সরকারি অর্থ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম।"
পোস্টের শেষে রাজনৈতিক বিরোধী এবং দলের একাংশের উদ্দেশে চাঁচাছোলা ভাষায় বিধায়ক লেখেন, "নিজে আয়নায় নিজের মুখ দেখে সবাইকে আপনার মতো দেখতে ভাববেন না।" জনপ্রতিনিধিদের সরকারি সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ নিয়ে যখন রাজ্য রাজনীতিতে জোর তরজা চলছে, তখন ভাতাড়ের বিধায়কের এই পোস্ট ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে নতুন চর্চা।