তৃণমূলের হয়ে কাজ-করা ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের দফতর ও তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে যেভাবে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাধার মধ্যে পড়ল ইডি, তাকে নজিরবিহীন বললেও কম বলা হয়। মনে কর...
তৃণমূলের হয়ে কাজ-করা ভোটকৌশলী সংস্থা আইপ্যাকের দফতর ও তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে যেভাবে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বাধার মধ্যে পড়ল ইডি, তাকে নজিরবিহীন বললেও কম বলা হয়। মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সকাল থেকে কী ঘটল?
জল অনেকদূর গড়াবে তা সকালেই বোঝা গিয়েছিল। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা এক ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে, ওই অবস্থায় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সেখানে ঢুকে পড়ে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে আসছেন, এ-ঘটনা নজিরবিহীন। এমনকি, ওই ব্যবসায়ীর দফতরেও (আইপ্যাক) তল্লাশি চলাকালীনও সেখানে ঢুকে পড়েন মুখ্যমন্ত্রী। তারপর দেখা যায়, একগুচ্ছ ফাইল নিয়ে একটি গাড়ি ওই তল্লাট থেকে বেরিয়ে গেল। তারও খানিক পরে, ওই বাড়ির বেসমেন্টে নেমে সংবাদমাধ্যমের সামনে বক্তব্য রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী। ফের দফতরে ঢুকে পড়লেন। জানালেন, ইডি না-বেরনো পর্যন্ত সেখানে থাকবেন তিনি।
ইডি-র বিবৃতি ও হাইকোর্টে মামলা
এহেন নজিরবিহীন ঘটনায় প্রশ্ন ওঠে, অভিযান চলাকালীন কী করে মুখ্যমন্ত্রী ফাইল নিয়ে বেরোলেন? প্রশ্নের মুখে পড়ে ইডি-র বিশ্বাসযোগ্যতা ও কর্মদক্ষতা। এই পরিস্থিতিতে বিবৃতি দিয়ে ইডি জানাল, অভিযান চলাকালীন ফাইল ছিনিয়ে নেওয়া 'ক্ষমতার অপব্যবহার'। এবং, আজই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় তারা। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষ মামলার অনুমতি দেন। শুক্রবার মামলার শুনানির প্রবল সম্ভাবনা।
এরই মাঝে, লাউডন স্ট্রিট থেকে অভিযান চালিয়ে বেরনোর পর ইডি-সূত্রে খবর পাওয়া যায়, তাদের পঞ্চনামায় খোদ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম রেখেছে ইডি। এবং, অভিযান চলাকালীন মুখ্যমন্ত্রী ব্যবসায়ীর বাড়ির ভিতর ঢুকে ফাইল নিয়ে বেরিয়ে এসেছেন, তা-ও স্পষ্ট করে লেখা হয়েছে ওই পঞ্চনামায়।
বিবৃতি দিয়ে ইডি দাবি করেছে, রাজ্যে ভোটের সঙ্গে এই অভিযানের কোনও সম্পর্ক নেই। পুরনো মামলার তদন্তেই এই অভিযান। অভিযান চলাকালীন ফাইল নিয়ে বাইরে বেরিয়ে এসে 'ক্ষমতার অপব্যবহার' করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
এদিকে ইতিমধ্যেই হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয় ইডি-র একটি দল। আইপ্যাক ও তার কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে হানা দেওয়ার সময়ে যেভাবে তাদের বাধার মুখে পড়তে হয়েছে, তার সুরাহা পেতে বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের এজলাসে মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার অনুমতিও দেন বিচারপতি ঘোষ। শুক্রবার সেই মামলার শুনানির প্রবল সম্ভাবনা।