বিজেপি নেতা রাকেশ সিং-কে অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এবার আর প্রার্থী হওয়ার পথে বাধা রইল না তাঁর।রবিবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতা বন্দরে জনসংযোগের সময়ে নাম না-করে রাকেশকে ইঙ্গিত করেছি...
বিজেপি নেতা রাকেশ সিং-কে অন্তর্বর্তী জামিন দিল কলকাতা হাইকোর্ট। এবার আর প্রার্থী হওয়ার পথে বাধা রইল না তাঁর।
রবিবার নিজের বিধানসভা কেন্দ্র কলকাতা বন্দরে জনসংযোগের সময়ে নাম না-করে রাকেশকে ইঙ্গিত করেছিলেন ফিরহাদ হাকিম। এই বিধানসভায় এখনও পর্যন্ত বিজেপি আপনার বিরুদ্ধে প্রার্থী দিতে পারেনি, কী বলবেন? ফিরহাদের উত্তর, "আমি যা শুনলাম, ওঁরা (বিজেপি নেতারা) হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছেন। একজন লোক আছেন, মাসলম্যান। ওঁকে জেল থেকে বার করে এনে এখানে প্রার্থী করা হবে। ওঁরা ক্রিমিনালকে নিয়ে এসে প্রার্থী করার চেষ্টা করছে আমার বিরুদ্ধে। তবে আমরা ক্রিমিনালদের পাত্তা দিই না"।
পর্যবেক্ষকদের বুঝতে অসুবিধা হয়নি যে, নাম না-করে রাকেশ সিংয়ের কথাই বলছেন ফিরহাদ। প্রসঙ্গত, গত অক্টোবর মাসে কসবার একটি ফ্ল্যাটে গুন্ডামি চালানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছিল রাকেশ সিং। এছাড়াও অনেক অভিযোগ ছিল এবং রয়েছে রাকেশের। এলাকায় বিজেপির বাহুবলী নেতা বলে পরিচিত তিনি।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন একটাই, নিজের গড় কলকাতা বন্দরে কি নিজের জয় নিয়ে সংশয়ী ফিরহাদ হাকিম? পর্যবেক্ষকরা তেমনটাই মনে করছেন। তাঁরা বলছেন, ফিরহাদ হাকিম চান বা না-চান, রাকেশকে পাত্তা না-দিয়ে উপায় নেই তাঁর। এবং, তার প্রধান কারণ হল, নিজের গড়েই অনিশ্চিয়তার মধ্যে রয়েছেন তিনি। এসআইআর প্রক্রিয়ায় কমবেশি ৬০ হাজার নাম 'বাদ' গিয়েছে। ওয়াকফ ইস্যুতে মুসলিম সম্প্রদায়ের একটা বড় অংশই তৃণমূলের প্রতি ক্ষুণ্ণ। এমতাবস্থায়, ঘাসফুল শিবিররের সংখ্যালঘু ভোটে ভাগ বসাতে বদ্ধপরিকর হুমায়ুন, নওশাদ আর মিম-সুপ্রিমো ওয়েইসি। তাই 'ববিদা'র কাছে চেনা বন্দর অচেনা হয়ে উঠছে আজ। নইলে, বিজেপি কাকে প্রার্থী করতে চাইছে, তিনি মাসলম্যান কি না, তা নিয়ে এতদিন ভাবতে হয়নি তাঁকে। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মাসলম্যান তো কমবেশি সবদলেই থাকে। অন্তত, শাসকদলের কাছে তো থাকেই। তাই, বিজেপি যদি মাসলম্যানকে দাঁড়ও করায়, তা নিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে মন্তব্য করার দরকার ছিল না তাঁর। ফিরহাদ মুখে বলছেন বটে, "আমরা ক্রিমিনালদের পাত্তা দিই না", তবুও, বেশ বোঝা যাচ্ছে, বন্দরে নোঙর করতে গিয়ে এবার জোয়ার-ভাঁটার সময় নিয়ে ভাবতে হচ্ছে তৃণমূলকে।