এবার কি তবে 'খেলা' হবে না? নাকি শুরু হওয়ার আগেই 'খেলা' শেষ?রবিবাসরীয় সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় ভবানীপুরে জনসংযোগে বেরিয়ে ফিরহাদ হাকিম যা বললেন, তা যেন অস্তগামী সূর্যের নিচে রণক্লান্ত সৈনিকের ...
এবার কি তবে 'খেলা' হবে না? নাকি শুরু হওয়ার আগেই 'খেলা' শেষ?
রবিবাসরীয় সকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় ভবানীপুরে জনসংযোগে বেরিয়ে ফিরহাদ হাকিম যা বললেন, তা যেন অস্তগামী সূর্যের নিচে রণক্লান্ত সৈনিকের মুখ মনে করিয়ে দিল। নিজের ওয়ার্ড তথা তৃণমূল নেত্রীর বিধানসভা কেন্দ্রে জনসংযোগের সময়ে যখন ফিরহাদকে বিজেপির হামলা ও দিলীপ ঘোষের শাসানি নিয়ে প্রশ্ন করা হল, তখন তাঁর উত্তরে শোনা গেল, "মারতে পারে আমাকে, রক্তাক্ত করতে পারে আমাকে, যদি মরে যাই মরে যাবো, যদি বেঁচে থাকি তাহলে মানুষের পাশে আবার রক্তাক্ত অবস্থায় আসবো"।
পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, ফিরহাদ হাকিমের বিধানসভা কেন্দ্র থেকে হাজারে-হাজারে নাম 'বাদ' গিয়েছে। এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো নিজের মুখে বলেছেন, ভবানীপুরে আড়াই লক্ষ ভোটার, তার মদ্যে হাজার পঞ্চাশেক বাদ গিয়েছে। এমতাবস্থায়, মুখ্যমন্ত্রী থেকে শুরু করে রাজ্য মন্ত্রিসভার দ্বিতীয় ব্যক্তি ফিরহাদ হাকিম, নিজেদের গড় নিয়ে প্রবল সংশয়ে রয়েছেন। এবং, সেই সংশয় তাঁদের চোখে-মুখে প্রতিফলিত হচ্ছে।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুরে এবার সার্জিক্যাল স্ট্রাইকের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শুভেন্দু অধিকারী। গত তিনদশক ধরে কালীঘাট, হাজরা, ভবানীপুর তল্লাট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গড় বলে পরিচিত। ১৯৯০ সালে হাজরা মোড়ে মার খেয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভরতি হতে হয় তাঁকে। হাসপাতাল থেকে ফিরে, পরের বছর দক্ষিণ কলকাতা লোকসভা কেন্দ্র থেকে থেকে জয়ী হন তিনি। রাজীব গান্ধী তাঁকে যুব কংগ্রেসের সভানেত্রী করেন। শুধু মমতা নিজেই নন। সুব্রত বক্সী থেকে শুরু করে মদন মিত্রের মতো তৃণমূল নেতাদের বাড়িও ভবানীপুরে। বাংলায় পালাবদলের পর, 'মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়' সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে এই ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্র থেকেই জয়ী হন। এমনকি, একুশের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম থেকে শুভেন্দু অধিকারীর কাছে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত হয়ে ভবানীপুর থেকেই উপনির্বাচনে দাঁড়ান তিনি।
এতদিন যা চলছিল তা চলছিল। কিন্তু তাল কাটে বাংলার এসআইআর শুরু হওয়ার পর। অবশ্য তার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, ভবানীপুরে জনবিন্যাস পাল্টে যাচ্ছে, বস্তি উচ্ছেদ করে বহুতল তৈরি হচ্ছে। তারপর এসআইআর-পর্বে যখন খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়, দেখা যায় কমবেশি ৪৫ হাজার নাম বাদ পড়েছে ওই বিধানসভার ভোটার তালিকা থেকে। চূড়ান্ত তালিকায় প্রকাশের পর আরও কয়েকহাজারের ভোটদান বিবেচনাধীন হয়ে পড়ে। ভবানীপুর থেকেই এই ভোটার তালিকা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন মমতা। অন্যদিকে ভবানীপুরে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেত্রীকে পরাস্ত করার কথা শোনা যায় বিরোধী দলনেতার মুখে। এবং, সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী, সূত্রের খবর বলছে, একই সঙ্গে নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর থেকে দাঁড়াতে চলেছেন শুভেন্দু নিজেই।