কদিন আগেও তাঁর সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ডিএ-ধর্মঘটে সামিল হলে বেতন কাটা যাবে। এমতাবস্থায়, দিল্লির বিজ্ঞানভবন থেকে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মাত্র কয়েকঘণ্টা আগে এক্সহ্যান্ডেলে পোস্ট করে রাজ...
কদিন আগেও তাঁর সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, ডিএ-ধর্মঘটে সামিল হলে বেতন কাটা যাবে। এমতাবস্থায়, দিল্লির বিজ্ঞানভবন থেকে বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট ঘোষণার মাত্র কয়েকঘণ্টা আগে এক্সহ্যান্ডেলে পোস্ট করে রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য ডিএ-বার্তা দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও, ডিএ-র দাবিতে দীর্ঘ আন্দোলনরত কর্মীরা বলছেন, প্রতিশ্রুতিতে ভুলছি না। অবিলম্বে ডিএ মিটিয়ে দেওয়ার বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে। সুপ্রিম কোর্টে মডিফিকেশন ও রিভিউ আবেদন তুলে নিতে হবে।
ডিএ-র দাবিতে রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের একটা বড় অংশ লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে আসছে। ধর্না, অনশন থেকে শুরু করে আইন-আদালত, সব পথ ধরেই চলছে আন্দোলন। মাঝে সুপ্রিম কোর্টে দীর্ঘদিন ঠান্ডা ঘরে পড়ে থাকে ডিএ মামলা। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূর অবসর নেওয়ার পর ফের ডিএ-মামলা নিয়ে নাড়াচাড়া শুরু হয়। অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট তার চূড়ান্ত রায়ে রাজ্যকে নির্দেশ দেয়, রাজ্য সরকারি কর্মচারিদের প্রাপ্য ডিএ-র ২৫ শতাংশ অবিলম্বে মিটিয়ে দিতে হবে। এমতাবস্থায়, ফের সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের আইনজীবীরা আবেদন করেন, এই সময়সীমা ডিসেম্বর অবধি বাড়ানো হোক। এরপর ১৩ মার্চ সংগ্রামী যৌথ মঞ্চ ধর্মঘটের ডাক দেয়।
নবান্ন থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই ধর্মঘটে সামিল হলে বেতন কাটা যাবে। এমতাবস্থায়, শুক্রবারের ধর্মঘটে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় কলকাতা হাইকোর্ট। বহু কর্মচারি অনুপস্থিত থাকেন। আর মুষ্টিমেয় যাঁরা উপস্থিত হন, তাঁরাও স্বাক্ষর করেননি। গেটের বাইরে চলে পিকেটিং। বার অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করা হয়। সরকারি কর্মচারিদের সংহতি জানাতে পিকেটিংয়ে হাজির থাকেন আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এজলাসে বসলেও কোর্ট অফিসার ছিলেন না। এমতাবস্থায়, তাঁর আপ্ত সহায়করা তাঁকে সহযোগিতা করেন ঠিকই। কিন্তু প্রধান বিচারপতি জানিয়ে দেন, দুপক্ষের আইনজীবী উপস্থিত থাকলে তবেই তিনি মামলা শুনবেন। যদিও, প্রধান বিচারপতির বেঞ্চে এদিন তালিকাভুক্ত কোনও মামলাতেই দুপক্ষের আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না। এমতাবস্থায়, এজলাস ছেড়ে চলে যান তিনি।
ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে খাদ্য ভবন। বকেয়া ডিএ-র ২৫ শতাংশ ও ৬ লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের দাবিতে কলকাতার খাদ্যভবনে ধর্মঘটীরা পিকেটিং করার সময়ে 'শাসকনেতা'র দাদাগিরিতে পরিস্থিতি রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে উঠল। শুধু ধর্মঘটীদের ধমক-চমক নয়, সাংবাদিকদের উদ্দেশে রীতিমতো গালিগালাজ করতে শুরু করেন ওই দাপুটে নেতা। এবং, তিনি আদৌ এই দফতরের কর্মী কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে সোজা ভিআইপি লিফটে উঠে পড়েন এবং ফের সাংবাদিকদের চোখ রাঙাতে শুরু করেন।