জল্পনার অবসান! রাজ্য মন্ত্রিসভার দফতর বন্টন করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গত ১ জুন রাজ্যপাল আরএন রবির উপস্থিতিতে লোক
ভবনে যে ৩৫ জন বিধায়ক মন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন, আজ তাঁদের দায়িত্ব বণ্টন করা হলো। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন এই
সরকারে এখন মোট মন্ত্রীর সংখ্যা ৪১। তার মধ্যে রয়েছে মুখ্যমন্ত্রীর নামও। কাকে কোন দফতর দেওয়া হল? দেখে নিন তালিকা।
নতুন মন্ত্রিসভায় আঞ্চলিক ভারসাম্য, জাতিগত সমীকরণ এবং লিঙ্গ বৈচিত্র্যের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। ১০ জন
মন্ত্রী উত্তরবঙ্গ থেকে উঠে এসেছেন, যা রাজ্যের ইতিহাসে নজিরবিহীন। এছাড়াও মন্ত্রীসভায় নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, যার মধ্যে অগ্নিমিত্রা পাল
এবং মালতি রাভা রায়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মুখ রয়েছেন। এদিনের তালিকায় ১৩ জন পূর্ণমন্ত্রী, ৩ জন স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী এবং ১৯ জন
প্রতিমন্ত্রীর নাম রয়েছে।
এক নজরে রাজ্যের নতুন মন্ত্রীদের তালিকা...
পূর্ণমন্ত্রী
১. শুভেন্দু অধিকারী- স্বরাষ্ট্র দফতর, ভূমি ও ভূমি রাজস্ব, বিদ্যুৎ দফতর, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর-সহ যেগুলির দায়িত্ব ভাগ করা হয়নি সেগুলি
নিজের কাছে রেখেছেন মুখ্যমন্ত্রী।
২. নিশীথ প্রামাণিক- উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর, জলসম্পদ তদন্ত ও উন্নয়ন দফতর।
৩. অশোক কীর্তনিয়া- খাদ্য ও সরবরাহ দফতর।
৪. দিলীপ ঘোষ-পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর, কৃষি বিপণন দফতর।
৫. ক্ষুদিরাম টুডু- আদিবাসী কল্যাণ মন্ত্রী, সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর।
৬. অগ্নিমিত্রা পাল- পুর ও নগর উন্নয়ন দফতর।
৭. দীপক বর্মন- স্কুল শিক্ষা দফতর, হাউজিং ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতর।
৮. তাপস রায়- শিল্প ও বাণিজ্য দফতর।
৯. শংকর ঘোষ- পর্যটন, পরিষদীয় দফতর।
১০. মনোজকুমার ওরাওঁ-পরিবেশ ও বন দফতর।
১১. অর্জুন সিং- শ্রম ও পরিবহন দফতর।
১২. গৌরি শংকর ঘোষ- অনগ্রসর শ্রেণী কল্যাণ দফতর, লাইব্রেরি দফতর।
১৩. জগন্নাথ চট্টোপাধ্যায়- উচ্চশিক্ষা দফতর।
১৪. স্বপন দাশগুপ্ত- অর্থমন্ত্রী।
১৫. কল্যাণ চক্রবর্তী- তথ্য প্রযুক্তি দফতর, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ দফতর।
১৬. শ্বারদত মুখোপাধ্যায়- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর।
১৭. অরূপকুমার দাস- সেচ দফতর।
১৮. অজয়কুমার পোদ্দার- জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও পূর্ত দফতর।
১৯. দুধকুমার মণ্ডল- কৃষি দফতর।
স্বাধীন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী
১. মালতি রাভা রায়- নারী ও শিশু কল্যাণ দফতর।
২. রাজেশ মাহাতো- মৎস্য দফতর এবং প্রাণী স্মপদ বিকাশ দফতর।
৩. ইন্দ্রনীল খাঁ- ক্রীড়া ও ক্রেতা সুরক্ষা দফতর।
প্রতিমন্ত্রীদের তালিকা
১. জোয়েল মুর্মু- আদিবাসী উন্নয়ন ও সেচ দফতর।
২. হরেকৃষ্ণ বেরা- উচ্চশিক্ষা দফতর।
৩. আনন্দময় বর্মন- পরিবহণ ও অর্থ দফতর।
৪. অশোক দিন্দা- কৃষি বিপণন ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প দফতর।
৫. নাদিয়ার চাঁদ বউরি- পূর্ত, অনগ্রসর জাতি কল্যাণ দফতর।
৬. বিশাল লামা- স্বরাষ্ট্র দফতর, সংখ্যালঘু ও মাদ্রাসা শিক্ষা দফতর।
৭. শান্তনু প্রামাণিক- খাদ্য ও সরবরাহ দপ্তর, পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন দফতর।
৮. মৌমিতা বিশ্বাস মিশ্র- শিল্প দফতর, বিজ্ঞান প্রযুক্তি ও বায়ো টেকনলেজি।
৯. উমেশ রায়- পরিষদীয় দফতর, পুর ও নগরোন্নয়ন দফতর।
১০. পূর্ণিমা চক্রবর্তী- তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর, পর্যটন।
১১. কৌশিক চৌধুরী- স্কুল শিক্ষা দফতর এবং অগ্নি ও জরুরি পরিষেবা দফতর।
১২. ভাস্কর ভট্টাচার্য- জনস্বাস্থ্য কারিগরি ও শ্রম দফতর।
১৩. দিবাকর ঘরামি-সমবায় দফতর, বন দফতর এবং পরিবেশ দফতর।
১৪. অমিয় কিস্কু- খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও কৃষি দফতর।
১৫. কলিতা মাঝি: আবাসন দফতর।
১৬. গার্গীদাস ঘোষ: বিদ্যুৎ দফতর এবং অপ্রচলিত ও নবায়নযোগ্য শক্তি উৎস দফতর।
১৭. বিরাজ বিশ্বাস- আইন দফতর এবং উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন দফতর।
১৮. দীপঙ্কর জানা- ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতর , সুন্দরবন বিষয়ক দফতর ।
১৯. সুমনা সরকার- স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ দফতর।
উল্লেখ্য, গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে যে পাঁচ মন্ত্রী-দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিক, অশোক কীর্তনিয়া এবং ক্ষুদিরাম টুডু শপথ নিয়েছিলেন, তাঁদের দায়িত্ব আগেই নির্ধারিত ছিল। আজকের সম্প্রসারণের ফলে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ডে গতি আসবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। রাজ্যের এই নতুন মন্ত্রিসভা স্বচ্ছতা ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ করবে বলে বিজেপির দলীয় নেতৃত্ব আশাপ্রকাশ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই নবাগত মন্ত্রীরা নিজেদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব কতটা দক্ষতার সঙ্গে পালন করেন।