ভূপতিনগর বিস্ফোরণ কাণ্ডের প্রথম চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি এনআইএর। এনআইএ সূত্রে নাম উঠে এসেছে এই বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডে আরও দুজনের। জানা যাচ্ছে, নির্বাচনের আগে কিংবা পরে সাধারণকে ভয় দেখাতেই চলত বোমার অবাধ ...
ভূপতিনগর বিস্ফোরণ কাণ্ডের প্রথম চার্জশিটে বিস্ফোরক দাবি এনআইএর। এনআইএ সূত্রে নাম উঠে এসেছে এই বোমা বিস্ফোরণ কাণ্ডে আরও দুজনের। জানা যাচ্ছে, নির্বাচনের আগে কিংবা পরে সাধারণকে ভয় দেখাতেই চলত বোমার অবাধ ব্যবহার!
সেসময় ঘটনাস্থলে গেলে যতদূর চোখ যেত, আতঙ্কের ছাপ দেখা যেত স্থানীয়দের চোখেমুখে। ভূপতিনগরে ২০২২ এর ২ ডিসেম্বর তৃণমূল অঞ্চল সহ সভাপতি রাজকুমার মান্নার বাড়িতে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ বোমা বিস্ফোরণে ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছিল ৩ তৃণমূল কর্মীর। মৃত্যু হয়েছিল, তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সহ-সভাপতি রাজকুমার মান্না-সহ তাঁর ভাই দেবকুমার মান্না ও বিশ্বজিৎ গায়েনের। ভূপতিনগর বিস্ফোরণ কাণ্ডে ৪ জুলাই এনআইএর বিশেষ আদালতে প্রথম চার্জশিট পেশ করেছিল এনআইএ। এবার সেই চার্জশিটে থাকা বিস্ফোরক আরও কিছু তথ্য সামনে আনলো এনআইএ।
জানা যাচ্ছে, চার্জশিটে নাম রয়েছে স্বর্গীয় রাজকুমার মান্না, স্বর্গীয় বিশ্বজিৎ গাইন, স্বর্গীয় বুদ্ধদেব মান্না, পঞ্চানন গড়াই, মনোব্রত জানা ও বলাই চরণ মাইতির। এছাড়াও রয়েছে তৃণমূলের জেলা পরিষদের পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ মানবকুমার পড়ুয়া এবং তৃণমূল কর্মী নবকুমার পণ্ডার নাম। চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, লজিস্টিক সাপোর্টের দায়িত্বে ছিলেন এই মানবকুমার পড়ুয়া এবং নবকুমার পণ্ডা। এমনকি বিস্ফোরক তৈরির কাঁচামাল সরবরাহের দায়িত্বেও ছিলেন তৃণমূলের এই দুই নেতাই। জানা যাচ্ছে, চার্জশিটে এনআইএর পক্ষ থেকে আরও দাবি করা হয়েছে বোমা তৈরি করে ফাঁকা জায়গায় সেই বোমা পরীক্ষা করা হত। শুধু তাই না, নির্বাচনের আগে ও পরে সাধারণ মানুষকে এইসব বোমা দিয়ে ভয় দেখিয়ে বিভিন্ন হুমকির কারবারিও চলত।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় এর আগে একটি চার্জশিট পেশ করেছিল পুলিস। ২০২২ এ ভূপতিনগরে বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটার পর স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করে পুলিস। ঘটনার ৩ মাস পরে আদালতের নির্দেশে ঘটনার তদন্তভার হাতে নেয় এনআইএ। আদালতের নির্দেশে সেই বিস্ফোরণের ঘটনার তদন্তে অভিযুক্তদের গ্রেফতার করতে গিয়েই চলতি বছর এপ্রিলে হামলার মুখে পড়তে হয়েছিল এনআইএকে। যদিও বিস্ফোরণের ঘটনার পর থেকে বিরোধীদের দাবি ছিল প্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করছে পুলিস। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু এই ঘটনায় এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন। এছাড়াও এনআইএ তদন্তের দাবি জানিয়ে জনস্বার্থ মামলা দায়ের করেছিলেন অনিন্দ্যসুন্দর দাস নামে এক আইনজীবী। ঘটনার ৩ মাস পর ভুপতিনগর কাণ্ডে এনআইএ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। অবশেষে প্রথম চার্জশিট পেশ, সেই চার্জশিটে ফের বিস্ফোরক তথ্য। শেষমেশ কী হয় দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তি, অপেক্ষা তারই।