ট্রাইবুনালকে ঘিরে জটিলতা বাড়ছে। এবং, বেড়েই চলেছে। জটিলতা ১বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিচারে। এই ২৭ লক্ষ ও নানা কারণে সন্দেহ...
ট্রাইবুনালকে ঘিরে জটিলতা বাড়ছে। এবং, বেড়েই চলেছে।
জটিলতা ১
বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিচারে। এই ২৭ লক্ষ ও নানা কারণে সন্দেহভাজন আরও ৭-৮ লক্ষ নাম নিয়ে নিষ্পত্তি করার কথা ছিল আপিল ট্রাইবুনালের। প্রথম দফায় ১৬ টি জেলায় ১৫২ আসনে ভোট হচ্ছে। যদি ধরে নেওয়া যায় এই ১৫২ টি আসনে কমবেশি ১৫ লক্ষ ভোটারের নাম ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তির জন্য ঝুলে ছিল, তাহলে তাঁদের মধ্যে মাত্র ১৩৬ জন এবার ভোট দিতে পারবেন। শতাংশের হিসেবে যা শূন্য দশমিক ডট-ডট-ডট!
জটিলতা ২
ট্রাইবুনাল কীভাবে কাজ করছে, কত দ্রুত কাজ করছে, কতজনের নাম নিষ্পত্তি করছে, তা নিয়ে কার্যত অন্ধকারেই রয়ে গেছে রাজনৈতিক মহল। এবং অবশ্যই, যাঁদের ভোট-ভাগ্য নির্ভর করছে ট্রাইবুনালের সিদ্ধান্তের উপর, তাঁরাও একেবারে অন্ধকারে। এমতাবস্থায়, ট্রাইবুনাল কীভাবে কাজ করছে, তার এসওপি (SOP) বা Standard Operating Procedure প্রকাশ্যে আনার আবেদন জানিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ করে দেয় প্রধান বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ। বেঞ্চের বক্তব্য, সুপ্রিম কোর্টেই এসআইআর সংক্রান্ত যাবতীয় আবেদন করতে হবে। কারণ সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিকা মেনে ট্রাইবুনালের বিচারপতিদের নাম দেওয়া হয়েছে। এসওপি তৈরির জন্য শীর্ষ আদালতের নির্দেশে ৩ বিচারপতির কমিটি গড়ে দেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোনও পদক্ষেপ করবে না হাইকার্ট।
কেন এই জটিলতা?
পর্যবেক্ষকদের অনেকেই কিন্তু মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের শাসকশিবিরের মামলাতেই কিন্তু পুরো প্রক্রিয়া বিচারবিভাগের হাতে চলে যায়। খসড়া তালিকায় কমবেশি ১ কোটি ৩০ লক্ষ নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি-র ক্যাটেগরিতে ছিল। কমিশন ও রাজ্যের আধিকারিকরা মিলে কিন্তু তার মধ্যে কমবেশি ৭০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি করেছিল। সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে সওয়াল ও তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে কমিসনের বাগবিতণ্ডার ফলেই কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাস বাদবাকি ৬০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তির ভার বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দেয়। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্ব তৈরি কমিটির হাতেই পুরো প্রক্রিয়া চলে যায়। কমিশনের আর কিছু করা থাকে না।
দিনকয়েক আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, " ট্রাইবুনাল আমার অধীনে কাজ করছে না। পুরোটাই বিচারবিভাগের হাতে। ওরা যখন যত নাম নিষ্পত্তি করবে তখন সেই মতো তালিকা প্রকাশ করতে প্রস্তুত আছি আমরা"।
প্রসঙ্গত, বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী সম্প্রতি মন্তব্য করেন, "সবই চলছিল। হঠাৎ দেখলাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সওয়াল করলেন আর পুরো ব্যাপারটা বিচারবিভাগের হাতে চলে গেল"।