"শুনানির নোটিস পেয়ে অবাক হয়ে গিয়েছিলাম। ২০০২ সালেও তো আমি এই বাড়িতে ছিলাম। ভোট দিয়েছি। বিধায়ক হয়েছি। তা সত্ত্বেও নোটিস! শুনানির পরও আমার নামের উপর আন্ডার অ্যাডজুডিকেশন লেখা দেখলাম"।
সাপ্লিমেন্টারি তালিকায় নিজের নাম ওঠার পর সংক্ষেপে এই-ই হল শশী পাঁজার প্রতিক্রিয়া। এবং এই প্রসঙ্গে পর্যবেক্ষকরা মনে করালেন ২৫ জানুয়ারি শ্যামপুকুরের কেশব অ্যাকাডেমিতে শশীর নাটকীয় শুনানির কথা।
নাটকের প্রথম পর্ব
প্রথম দফায় শুনানি-পর্ব সেরে বেরিয়ে এসে সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে শশী পাঁজা বললেন, "ভেতরে যা হল, আমি আশ্চর্য হয়ে গেলাম। আমি এনুমারেশন ফর্ম নিয়ে এসেছিলাম, ২০০২-এর ভোটার তালিকায় আমার নাম ছিল, ওই তালিকা নিয়ে এসেছিলাম, সেল্ফ অ্যাটেস্টেড ডকুমেন্ট হিসেবে আধার নিয়ে এসেছিলাম। এগুলোই দেখাবো"। এরপর পাশে দাঁড়িয়ে থাকা তৃণমূলের এক বিএলএ-কে দেখিয়ে তিনি বললেন, "ওঁর কাছ থেকে শুনে নিন কী জিজ্ঞেস করল আমাকে"।
বুম ধরা হল ওই যুবকের মুখের সামনে, "২০০২-এর ম্যাপিংয়ে ওঁর নাম রয়েছে। তা সত্ত্বেও পাসপোর্টে জোর দেওয়া হল। ওঁরা বললেন, ২০০২-এ আপনার নাম ঠিকই আছে, আমাদের ম্যাপ করতে ভুল হয়েছে। তাই পাসপোর্টের কথা বললেন। আমরা বললাম, কমিশনের ভুল হলে উনি কেন নথি হিসেবে পাসপোর্ট দেবেন? তাছাড়া, সবার তো আর পাসপোর্ট নেই। আমরা যখন আপত্তি জানালাম, তখন ওঁরা বললেন, ন-না ঠিক আছে। মাইক্রো অবজারভারকে যখন উনি (শশী পাঁজা) বললেন, এটা কমিশনের নিয়ম নয়, তখন বলা হলো, আপনি যা দিয়েছেন তাতেই হবে"।
এরপর শশী পাঁজাকে বলতে শোনা গেল, "আমার নাম নিয়ে চিন্তিত নই, কিন্তু সাধারণ মানুষের কথা ভেবে দুশ্চিন্তা হচ্ছে। আমি অবাক হয়ে গেলাম। ২০০২-এ আমার যে-নাম রয়েছে, সেই নামের বানান আর বর্তমানে যে নাম রয়েছে, তার মধ্যে কোনও ফারাক নেই। ওঁরা বললেন, অ্যাপে সমস্যা হচ্ছে। গলদ ওঁদের। তখন আমার কাছে ১১ টি নথি চাওয়ায় আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম। তখন সবাই (দলের বিএলএ ও অন্যান্যরা) রিয়্যাক্ট করলেন। পাসপোর্ট চাইছেন ওঁরা। আমি হাজারো নথি দিয় দেবো। কিন্তু পাসপোর্ট দেখাবো না। এটাই আমার প্রতিবাদ। সবার তো আর পাসপোর্ট নেই"।
নাটকের দ্বিতীয় পর্ব
এবার নাটকীয়ভাবে শুনানি কেন্দ্রের ভিতর থেকে কমিশনের প্রতিনিধিস্থানীয় এক মহিলা (বিএলও বলে দাবি করা হচ্ছে) বেরিয়ে এলেন। জটলার মধ্যে কিছু কথা শোনা গেল, কিছু কথা গেল না। ওই মহিলার উদ্দেশে শশী পাঁজাকে বলতে শোনা গেল, "আবার যেতে হবে আমাকে"? মহিলা বিনীতভাবে উত্তর দিলেন, "আপনাকে যেতে হবে না। আধার কার্ড ছাড়া আর একটা নথি দিতে বলা হচ্ছে"। দৃশ্যতই বিরক্ত মন্ত্রীকে বললে শোনা গেল, "কেন, জাস্টিফাই করুন তো। ২০০২-এ আমার নাম আছে। আমাকে ডাকা হল। আমার স্বামীর নামও ২০০২-এর তালিকায় আছে। তাহলে তাঁকে কেন ডাকা হল না"? উত্তর শোনা গেল, "ওঁর কোনও মিসম্যাচ হয়নি"। মন্ত্রীর প্রশ্ন, "তাহলে আমার কেন মিসম্যাচ হল"? আবার উত্তর, "কোনওভাবে এরর (ত্রুটি) হয়েছে"। আবার প্রশ্ন, "আপনাদের এররের জন্য আমি কেন পাসপোর্ট দেবো"? উত্তর, "আপনি পাসপোর্ট দিলে এখনই আপলোড করা যাবে, স্যর বললেন"। প্রশ্ন, "কোন স্যর"? উত্তর, "এইআরও"।
কমিশনের প্রতিনিধির প্রস্থান। এবং মন্ত্রীর মন্তব্য, "আমি শঙ্কিত, আমার নাম থাকবে কি না"।
নাটকের তৃতীয় পর্ব
"ভেতরে তো এইআরও আছেন", বলে ফের শুনানি কেন্দ্রের দিকে রওনা দিলেন শশী পাঁজা। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হল। কিছুক্ষণ বাদে ভিতর থেকে বাইরে এসে উত্তেজিত হয়ে বললেন, "জিজ্ঞেস করলাম, কেন আপনাদের সন্তুষ্ট করতে পারছি না (নথি দিয়ে)? বাইরে এসে ইআরও-কে ফোন করলাম। ইআরও বললেন, এটা হওয়া উচিত নয়, আপনি যা (নথি দেখিয়েছেন, তাতেই কাজ হওয়ার কথা। এবার জেদ কে দেখাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন। জিদ্দি"!