'গোপন' ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর তাঁকে সকাল-বিকেল শুনতে হচ্ছে: মুসলিমদের আবেগ নিয়ে খেলছেন হুমায়ুন কবীর। এমতাবস্থায়, নিজের ডিফেন্স সাজাতে গিয়ে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা বাংলায় বাবরি মসজিদ প...
'গোপন' ভিডিয়ো প্রকাশ্যে আসার পর তাঁকে সকাল-বিকেল শুনতে হচ্ছে: মুসলিমদের আবেগ নিয়ে খেলছেন হুমায়ুন কবীর। এমতাবস্থায়, নিজের ডিফেন্স সাজাতে গিয়ে আমজনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান তথা বাংলায় বাবরি মসজিদ প্রকল্পের প্রবক্তা মাঝে মধ্যে সেমসাইড গোল করে বসছেন। এদিন, সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তিনি হুমায়ুন কবীর যা বললেন, তা-ও স্ববিরোধিতার দোষে দুষ্ট বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
কেন?
প্রথম থেকেই তিনি দাবি করছেন ওই ভিডিয়ো এআই-নির্মিত। অথচ, একইসঙ্গে তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, "যে-ভিডিয়ো প্রকাশ করেছে তৃণমূল, সেখানে দেখানো হচ্ছে আমি বহরমপুরের ফ্ল্যাটে বসে কথা বলছি। তৃণমূলের মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ববি হাকিম, কুণাল ঘোষকে আমি কালকেই চ্যালেঞ্জ করেছি। আমি আমার ফ্ল্যাটে বসে কোন বিজেপি নেতার সঙ্গে কথা বলেছি, ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ডিল করেছি না কোনও মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে ডিল করেছি, ক্ষমতা থাকলে সেটা দেখাক না। সেটা না-দেখিয়ে আমি কার সঙ্গে কথা বলছি, ওটা (ওই ভিডিয়ো) করা যায়। আমিও করিয়ে দেবো। চিন্তা নেই। অপেক্ষা করুন। ওইসব করানোর ক্ষমতা আমারও আছে। আমিও দেখাব, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কবে মোহন ভাগবতের (আরএসএস প্রধান) সঙ্গে কোথায় বসেছেন, কবে কার সঙ্গে ডিল করেছেন, সব দেখিয়ে দিতে পারি"।
তাহলে স্টিং অপারেশনের তত্ত্ব স্বীকার করে নিচ্ছেন হুমায়ুন কবীর?
এদিনও তাঁর বক্তব্যে স্ববিরোধিতা স্পষ্ট ফুটে উঠেছে। এদিন সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে তাঁকে বলতে শোনা যায়, "১৯. ১২. ২০২৫-এর ওই ভিডিয়োর ১৯ মিনিট প্রকাশ করা হয়েছে। পুরো ৫১ মিনিটের ভিডিয়ো আমি প্রকাশ করবো। দু-চারদিন অপেক্ষা করুন। ওরা যাকে সাজিয়ে আমার কাছে পাঠিয়েছিল, যেখান থেকে পারি তাকে খুঁজে বার করবো। মানুষের কাছে আসল রহস্য উন্মোচিত হবে"।
এবার সেই লুজ-বল খেললেন হুমায়ুন। "যাকে সাজিয়ে আমার কাছে পাঠিয়েছিল" বলার মধ্যেই সন্দেহের বিশেষ অবকাশ থাকছে না যে, তাঁকে ফাঁসাতে ওই ভিডিয়ো করা হয়েছিল ঠিকই, তবে, তা এআই-নির্মিত নয়।