'ভ্রষ্টাচারের দৌড়ে বিজেপির চেয়ে কোনও অংশে পিছিয়ে নেই তৃণমূল', ছাব্বিশের বিধানসভায় বাংলার মাটিতে তাঁর প্রথম জনসভা থেকে এভাবে একই তিরে নরেন্দ্র মোদী ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিঁধলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী।
কী বলেছেন রাহুল?
মালদহে কংগ্রেসের ৪ প্রার্থীর সমর্থনে চাঁচলে জনসভা করলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। এবং, গনিখান চৌধুরীর জেলাতে, দীপা দাশমুন্সীর উপস্থিতিতে কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থক নস্টালজিক করে দিয়ে রাহুল বলেন. প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী বেঁচে থাকলে বাংলায় কংগ্রেস সরকার গঠন করতেন। এবং, সেই সরকারের মুখ্যমন্ত্রীও হতেন প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী।
ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতির মোদী
"নরেন্দ্র মোদী দেশকে বিক্রি করে দিয়েছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে উঠতে-বসতে ধমক দেন, মস্করা পর্যন্ত করেন, লোকসভায় তাঁর চোখে চোখ রেখে কথা বলতে সাহস পান না মোদী। এদিকে তিনি বলেন তাঁর ছাপ্পান্ন ইঞ্চি ছাতি!"
মমতার বাংলায় 'ডাবল লোকসান'
"ছোট মাঝারি কারখানা কী করবে, আমেরিকার জিনিস সুনামির মতো ভারতে ঢুকলে"? নরেন্দ্র মোদীকে ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একই তিরে বিঁধে রাহুল বললেন, "আপনারা দেখছেন ছোট-মাঝারি কারখানা তো মমতাজি বন্ধ করে দিয়েছেন। বাংলায় ডাবল লোকসান। মমতাজি বাংলায় শিল্পকে শেষ করে দিয়েছেন। আর দেশে মোদী শিল্পকে শেষ করে দিয়েছেন"।
চাকরির বদলে বেকারভাতা
"বাংলায় বিজেপির পথ প্রশস্ত করছে তৃণণূল কংগ্রেস। কেন্দ্রীয় সরকার বাংলার জন্য অর্থ বরাদ্দ বন্ধ করে দিয়েছে। ২ লক্ষ কোটি টাকা এখনও দেয়নি। এসআইআর-এর মাধ্যমে লোকতন্ত্রকে আক্রমণ করছে বিজেপি। কিন্তু তৃণমূল কংগ্রেসও বাংলার জন্য কাজ করছে না। মোদী ভ্রষ্ট আর তৃণমূলও ভ্রষ্টাচারের প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে নেই। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ২০২১ সালে বাংলাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, ৫ লাখ মানুষকে রোজগার সুনিশ্চিত করবেন। কতজনকে রোজগার দিয়েছেন তিনি? কত কোম্পানি বন্ধ হয়েছে? কত শিল্প তাদের কারখানা গুটিয়ে নিয়ে চলে গিয়েছে? ৫ লক্ষ বেকারকে চাকরি দেওয়ার কথা ছিল, এখন দেখা যাচ্ছে ৮৪ লক্ষ বেকারভাতার জন্য আবেদন করেছেন। বাংলা একসময়ে ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব ছিল। প্রথমে কমিউনিস্ট, আর তারপর মমতাজি বাংলার শিল্প শেষ করে দিয়েছেন"।
ভ্রষ্টাচার, সিন্ডিকেট
"সারদা চিটফান্ডে ১৭ লক্ষ বিনিয়োগকারী অর্থ ফেরত পাননি, রোজভ্যালি চিটফান্ডে ৩১ লক্ষ বিনিয়োগকারী টাকা ফেরত পাননি। কয়লা, বেআইনি খাদান। ট্রান্সপোর্ট থেকে গুন্ডাট্যাক্স কালেক্ট করা হয়। তৃণমূলের সিন্ডিকেটকে ২৪ ঘণ্টা টাকা দিতে হয়। এছাড়া হিংসা, মারপিট, মিথ্যে কথা, কংগ্রেস কর্মীদে উপর আক্রমণ তো রয়েইছে"।
নারী নিরাপত্তা, আরজিকর
"মহিলাদের নিরাপত্তার কথা উঠলেই আরজিকর খুন-ধর্ষণের কথা উঠে আসে। বাংলায় (নারী নিরাপত্তা নিয়ে) কোনও দায়বদ্ধতা নেই কারুর। তৃণমূলের গুন্ডারা যা ইচ্ছে তা-ই করতে পারে এখানে। কংগ্রেসের নেতা তপন কান্দুকে খুন করিয়েছে তৃণমূল। বিজেপি, তৃণমূল দু-পক্ষই এখানে হিংসা ছড়াচ্ছে"।
কংগ্রেস ম্যানিফেস্টো
"প্রতি পরিবারের জন্য ১০ লাখ টাকার স্বাস্থ্যবীমা। জেলা হাসপাতালেই নিখরচায় ক্যান্সারের চিকিৎসা আর ডায়ালেসিস।
কৃষকদের বছরে ১৫ হাজার টাকা। তাঁদের জন্য ২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ নিখরচায়। যুব সম্প্রদায়ের জন্য, কমিউনিকেটিভ ইংরেজি, এইআর প্রশিক্ষণ, ইন্টার্নশিপের সুযোগ। মহিলাদের জন্য প্রতি মাসে ২ হাজার টাকা সরাসরি অ্যাকাউন্টে"।
যাহা বিজেপি তাহাই তৃণমূল
"দীপাজি (দাশমুন্সী) প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সীকে নিয়ে বললেন। প্রিয়রঞ্জন বাংলায় কংগ্রেসের সব চেয়ে বড় নেতা ছিলেন। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সী বেঁচে থাকলে বাংলায় কংগ্রেসের সরকার হত, প্রিয়রঞ্জন মুখ্যমন্ত্রী হতেন"।
"বাংলায় একদিকে বিজেপি, যারা ঘৃণা ছড়ানোর রাজনীতি করে,হিংসার রাজনীতি করে। ওদের প্রধানমন্ত্রী কম্প্রোমাইজড। ওদের কথা তাই বলারই দরকার নেই। অন্যদিকে বাংলায় তৃণমূল বিজেপির জন্য পথ প্রশস্ত করছে। তৃণমূল যদি নিজেদের কাজ করতো, রোজগারের বন্দোবস্ত করতো, ঘৃণা না-ছড়াতো তাহলে এখানে বিজেপির (অস্তিত্ত্বের) কোনও প্রশ্নই উঠতো না। বিজেপি টিকতেই পারতো না। বাংলাতে আমাদের প্রার্থীকে সমর্থন করুন,আমাদের প্রার্থীদের বিধানসভায় পাঠান। বাংলাকে বদলানোর কাজ শুরু করুন"।