মেরেকেটে আড়াই লক্ষ ভোটার। তার মধ্যে যদি এত নাম বাদ যায়, তাহলে ভোট দেবে কে? নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আশঙ্কা আগেও করেছেন। এখনও করছেন। এব...
মেরেকেটে আড়াই লক্ষ ভোটার। তার মধ্যে যদি এত নাম বাদ যায়, তাহলে ভোট দেবে কে? নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই আশঙ্কা আগেও করেছেন। এখনও করছেন। এবং, ভবানীপুরে বস্তি ভেঙে অবাধে বহুতল তৈরি হচ্ছে এবং সেইসঙ্গে জন বিন্যাসও পাল্টে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি। শুধু তা-ই নয়। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মুখে ভবানীপুরে একটি অনুষ্ঠান থেকে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, রাজ্যজুড়ে ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ যেতে চলেছে।
পর্যবেক্ষকরা তাঁর এই মন্তব্য নিয়ে নানারকম ব্যাখ্যা করেন। এমতাবস্থায়, রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী ভবানীপুর থেকে একাধিকবার দাবি করেন, একুশে যেমন নন্দীগ্রামে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করেছিলেন, ছাব্বিশে তেমন ভবানীপুর থেকে তৃণমূল নেত্রীকে পরাস্ত করবেন তিনি। যদিও, তিনি নিজেই ভবানীপুর থেকে পদ্মচিহ্নে লড়বেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রেখে দিয়েছেন শুভেন্দু। এমতাবস্থায়, যখন চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হয়ে গিয়েছে, তখন একটি অনুষ্ঠান থেকে বড় বিস্ময়জনকভাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা গেল, " ১ টা ভোট হলেও জিতবো"।
পর্যবেক্ষকদের বিস্ময়, একসময়ে বিরোধী নেত্রী হিসেবে কম ঝড়-ঝাপটার মধ্যে দিয়ে যেতে হয়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। হাজরা মোড়ে লাঠির বাড়ি খাওয়া থেকে শুরু করে কংগ্রেস ভেঙে তৃণমূল কংগ্রেস গঠন করা, প্রথমবারেই লোকসভায় কংগ্রেসকে সাইনবোর্ডে রূপান্তরিত করা, হয় এবার নয় নেভার বলেও বিধানসভা ভোটে মুখ থুবড়ে পড়া, লোকসভায় রাজ্যে শোচনীয় পরাজয় ও একটি মাত্র আসন নিয়ে লড়ে যাওয়া, সিঙ্গুরের পথে বাধাপ্রাপ্ত হয়ে ফিরে আসা, এমন অসংখ্য চড়াই-উতরাইয়ের মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে তাঁকে। এবং শেষ অবধি ৩৪ বছরের বামশাসনের অবসান ঘটিয়েছিলেন তিনি।
নিজের গড় নিয়ে সংশয়? নাকি আত্মবিশ্বাস?
পর্যবেক্ষকরা কেউ কেউ মনে করছেন, ভবানীপুর অ-বাঙালি ভোটারের সংখ্যা অনেক বেড়ে গিয়েছে, যাঁরা মূলত বিজেপির ভোটার, তাই মমতার এই সংশয়। যদিও, রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, ভবানীপুরে জনবিন্যাস বদলে যাওয়ার গল্প নতুন নয়, গত তিনদশক ধরে এই মধ্যবিত্ত বাঙালি জনপদ ক্রমশ বাঙালি-শূন্য হচ্ছে। এমতাবস্থায়, বিরোধী দল বিজেপির দাবি, ভোটার তালিকায় 'মৃত' আর ভুয়ো নাম বাদ যাওয়াতেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর নিয়ে ঘোর সংশয়ে রয়েছেন। চূ়ড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর দেখা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীর বিধানসভা কেন্দ্র থেকে কমবেশি ৪৭ হাজার নাম বাদ পড়েছে। এদের মধ্যে কতজন শেষ অবধি 'যোগ্য' ভোটার হয়ে উঠতে পারবেন ভোটের আগে, তা নিয়ে যথেষ্ট সংশয রয়েছে সংশ্লিষ্ট মহলে। এমতাবস্থায়, সম্প্রতি ভবানীপুরে ওয়াররুম খুলে সরাসরি তৃণমূলনেত্রীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন বিরোধী দলনেতা। সেখানে গিয়ে শোনা গিয়েছে "শুভেন্দুদা এখান থেকেই দাঁড়াবেন। পরিকল্পনা রয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন (মুখ্যমন্ত্রী) করেই ছাড়বেন উনি। ওই জন্যে এখানে আগে থেকে অফিস করা হয়েছে। তৃণমূলের ভোট এখানে আর নেই"।
তাই? দেখাই যাক-না।