জল গড়াচ্ছে অনেক দূর অবধি। এমতাবস্থায়, বাংলায় ঘুরপথে রাষ্ট্রপতি শাসনের চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, "পারলে করে দেখাক। মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছে"।&n...
জল গড়াচ্ছে অনেক দূর অবধি। এমতাবস্থায়, বাংলায় ঘুরপথে রাষ্ট্রপতি শাসনের চেষ্টা হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নের উত্তরে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, "পারলে করে দেখাক। মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছে"।
শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হওয়ার পর রাজ্যের শাসকদলের আশঙ্কা সত্যি হয়। বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের ভোটভাগ্য অনিশ্চিত হয়। খসড়ায় বাদ যাওয়া ৫৮ লক্ষকেও হিসেবের মধ্যে ধরছে তৃণমূল। এছাড়াও বাদ গিয়েছে (ডিলিটেড) বেশ কয়েক লক্ষ নাম। বাংলায় এসআইআর-পর্ব শুরু হওয়ার আগে ভোটার তালিকায় ছিল ৭,৬৬,৩৭,৫২৯ জনের নাম। শনিবারে চূড়ান্ত তালিকায় রয়েছে ৬,৪৪,৫২,৬০৯ জনের নাম। সম্প্রতি নিজের বিধানসভা কেন্দ্র ভবানীপুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বলতে শোনা যায়: ১ কোটি ২০ লক্ষ নাম বাদ পড়তে চলেছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার পর তেমনটাই দেখা যাচ্ছে বলে দাবি করছেন পর্যবেক্ষকরা।
এই পরিস্থিতিতে, রবিবার বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করে ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীনের ভোট-ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করলেন। তাঁর বক্তব্য, "বিচারবিভাগীয় আধিকারিক বা বিচারকেরাও তো মানুষ। তাঁদের কাছে তো কোনও জাদুকাঠি নেই। অথবা সফটওয়ার নেই। ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন। খুব বেশি হলে ৫০০ জন বিচারক কাজ করছেন। প্রতিদিনে যদি ২০ থেকে ৩০ টি নাম নিয়ে নিষ্পত্তি করেন, তাহলে খুব বেশি হলে দিনে ১০ থেকে ১৫ হাজার নিষ্পত্তি করা যাবে। আমি না-হয় ২০ হাজার ধরে নিলাম। তাহলে ৬০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তি করতে কত সময় লাগবে? নেই-নেই করে ৪ মাস। মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন লেগে যাবে। তাহলে নির্বাচন হবে কী করে? মে মাসের ৫ তারিখের মধ্যে যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়, তাহলে মার্চের ২০ তারিখের মধ্যে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে হবে। আজ ১ তারিখ। ২০ দিনের মধ্যে কি ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি সম্ভব?"
অভিষেকের দাবি, বিজেপির একটি অংশ নির্বাচন চায় না। তারা ভালোই জানে, ভোট হলে ভোকাট্টা হয়ে যাবে বিজেপি। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, "বাংলায় কি ঘুরপথে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির চেষ্টা চলছে"? প্রসঙ্গত, মে-মাসের ৭ তারিখের মধ্যে নতুন সরকার গঠন করতে হবে। তাই, তার আগেই ভোট-পর্ব শেষ করতে হবে। যদি তা না-করা যায়, তাহলে সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী এই সরকার আপনা থেকেই 'পড়ে যাবে' এবং রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে। অন্তত তেমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এমতাবস্থায় অভিষেকের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, "পারলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দেখাক। মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছে"।