তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম পরিচিত মুখ। আন্দোলনের ময়দান থেকে প্রশাসনের অন্দরমহল— প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি ছিলেন দলের আস্থাভাজন সৈনিক। সেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, যিন...
তৃণমূল কংগ্রেসের জন্মলগ্ন থেকে তিনি ছিলেন দলের অন্যতম পরিচিত মুখ। আন্দোলনের ময়দান থেকে প্রশাসনের অন্দরমহল— প্রায় তিন দশকের রাজনৈতিক যাত্রায় তিনি ছিলেন দলের আস্থাভাজন সৈনিক। সেই জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক, যিনি রাজনৈতিক মহলে 'বালু' নামেই বেশি পরিচিত, এবার দলের সমস্ত পদ থেকে ইস্তফা দিলেন। ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে যথেষ্ট তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ, মাত্র কয়েকদিন আগেই তাঁকে তৃণমূলের জাতীয় কর্মসমিতির সদস্য করা হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহ ঘোরার আগেই সেই পদ-সহ দলের যাবতীয় দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি।
১৯৯৮ সালে দল গঠনের সময় থেকেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ছিলেন জ্যোতিপ্রিয়। দীর্ঘদিন বিধায়ক, মন্ত্রী— নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন। রেশন দুর্নীতি মামলায় গ্রেফতার হয়ে জেলবন্দি হওয়ার পরও দল তাঁর পাশে ছিল। প্রকাশ্য সভা থেকে বারবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছিলেন, জ্যোতিপ্রিয়কে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানো হয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনেও তাঁকে প্রার্থী করেছিল দল। তবে ভোটে পরাজয়ের পর থেকেই তিনি অনেকটাই আড়ালে চলে যান। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তাঁর সক্রিয়তা কমে যায়। তারপরও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের আস্থা ছিল তাঁর উপর। সেই কারণেই সম্প্রতি তাঁকে জাতীয় কর্মসমিতিতে জায়গা দেওয়া হয়েছিল।
হঠাৎ এই পদত্যাগের কারণ হিসেবে অবশ্য শারীরিক অসুস্থতার কথাই জানিয়েছেন জ্যোতিপ্রিয়। তাঁর বক্তব্য, উচ্চ রক্তশর্করা এবং কিডনির সমস্যার কারণে তিনি আর দলের কাজের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকতে পারছেন না। তাই সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি চেয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলে এই ব্যাখ্যার বাইরেও নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কারণ, এমন এক সময়ে তাঁর এই সিদ্ধান্ত এল, যখন নির্বাচনী বিপর্যয়ের পর তৃণমূলের অন্দরে একের পর এক সাংগঠনিক পরিবর্তন, মতভেদ এবং নেতৃত্বের সংকট সামনে আসছে। ফলে জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের সরে দাঁড়ানো শুধুই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত, নাকি এর পিছনে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তা লুকিয়ে রয়েছে— সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহল।
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে যে দলের সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয় গড়ে উঠেছিল, সেই দল থেকেই তাঁর এই দূরত্ব তৈরি হওয়া নিঃসন্দেহে রাজ্যের রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তির ইঙ্গিত বহন করছে।