মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জাল-স্যালাইন কাণ্ডে প্রশাসনের রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল ১৩ জন চিকিৎসককে। সাসপেন্ড করা হয়েছিল প্রত্যেককে। কিন্তু ঘটনার ১ মাসের মধ্যে ৭ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি চিকিৎ...
মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের জাল-স্যালাইন কাণ্ডে প্রশাসনের রোষের মুখে পড়তে হয়েছিল ১৩ জন চিকিৎসককে। সাসপেন্ড করা হয়েছিল প্রত্যেককে। কিন্তু ঘটনার ১ মাসের মধ্যে ৭ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি চিকিৎসকের সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হয়। তবে সাসপেনশন বহাল থাকে বাকিদের উপর। এমতাবস্থায় মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপে প্রায় দেড় বছর পর হল 'শাপমুক্তি'। নিলম্বিত চিকিৎসকদের সাসপেনশন প্রত্যাহার করল প্রশাসন।
ঠিক কী হয়েছিল আজ থেকে দেড় বছর আগে?
২০২৫ সালের ৮ জানুয়ারি, রাতে ৫ প্রসূতি মহিলাকে রিঙ্গার ল্যাকটেড স্যালাইন প্রয়োগ করা হয়েছিল। তারপর থেকেই রোগীদের শরীরে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। মৃত্যু হয় এক প্রসূতি ও এক সদ্যোজাতের। সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে হইচই পড়ে যায় রাজ্যজুড়ে। প্রশ্নের মুখে পড়ে তৎকালীন সরকার। এমতাবস্থায় ঘটনার তদন্তে নেমে ওই বছরের ১৬ জানুয়ারি নিলম্বিত করা হয় ১৩ জনকে। তার মধ্যে ছিলেন ৭ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনি, প্রসূতি বিভাগের প্রধান মহম্মদ আলাউদ্দিন, সিনিয়ার রেসিডেন্ট পল্লবী বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ ৩ জন চিকিৎসক এবং এমএসভিপি জয়ন্তকুমার রাউত।
২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারী ৭ জন পোস্ট গ্র্যাজুয়েট ট্রেনির সাসপেনশন প্রত্যাহার করা হলেও চিকিৎসক ও এমএসভিপি'র সাসপেনশন বহাল থাকে। এরই মধ্যে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি চাকরি থেকে অবসর নেন মহম্মদ আলাউদ্দিন। কিন্তু সাসপেন্ড থাকায় তিনি অবসরকালীন সমস্ত সুবিধে থেকেও বঞ্চিত ছিলেন। এমতাবস্থায় গত বুধবার তাঁর সাসপেনশন প্রত্যাহার করে নেয় রাজ্য স্বাস্থ্যদফতর। পাশাপাশি স্বাস্থ্যদফতরের তরফে জানান হয়, মহম্মদ আলাউদ্দিন যতদিন পর্যন্ত সাসপেন্ড ছিলেন, সেই সময়টাকে ‘কর্তব্যরত সময়কাল’ ধরা হবে। ফলে এই সময়ের জন্য তিনি পূর্ণ বেতন ও ভাতা পাওয়ার অধিকারী। পাশাপাশি অবসরকালীন পেনশন এবং যাবতীয় সরকারি সুবিধেও পাবেন।
মহম্মদ আলাউদ্দিন ছাড়াও শুক্রবার আরও তিনজন চিকিৎসকের সাসপেনশন প্রত্যাহার করেছে স্বাস্থ্যদফতর। তাঁরা প্রত্যেকেই আজ থেকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজে পুনরায় কাজে যোগ দিয়েছেন। এই অবস্থায় ভেজাল স্যালাইন কাণ্ডের তদন্ত পুনরায় শুরু হবে বলে মনে করা হচ্ছে।