রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে আরও বড় বিপাকে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার তরফ...
রাজনৈতিক অস্থিরতার আবহে আরও বড় বিপাকে পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। দলের তিনটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে থাকা প্রায় ৪৪০ কোটি টাকার লেনদেন আপাতত বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের খবর। বিধাননগর সাইবার ক্রাইম থানার তরফে একটি বেসরকারি ব্যাঙ্ককে চিঠি পাঠানোর পরই এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। ফলে ওই অ্যাকাউন্টগুলি থেকে এখন আর কোনও টাকা তোলা বা স্থানান্তর করা যাবে না।
তদন্তকারী সংস্থার সন্দেহ, এই অ্যাকাউন্টগুলিতে বিপুল পরিমাণ অর্থের উৎস নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে বেআইনি আর্থিক লেনদেন, এমনকি তথাকথিত 'কাটমানি'-র টাকাও জমা থাকতে পারে। সেই কারণেই তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। এই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরের ক্ষমতার দ্বন্দ্বও প্রকাশ্যে এসেছে। গত কয়েকদিন ধরেই দলের তহবিলের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, তা নিয়ে দুই শিবিরের মধ্যে চাপানউতোর চলছিল। একদিকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ঠ নেতৃত্ব, অন্যদিকে নিজেদের 'আসল তৃণমূল' দাবি করা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির— উভয় পক্ষই তহবিলের স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশ্ন তুলছিল।
এই বিতর্কের সূচনা হয়েছিল প্রাক্তন মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাসের একটি চিঠিকে কেন্দ্র করে। তিনি ১২ জুন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে দলের তহবিল থেকে লেনদেন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আর্জি জানিয়েছিলেন। তাঁর আশঙ্কা ছিল, দলের অভ্যন্তরীণ টানাপোড়েনের সুযোগ নিয়ে তহবিলের অপব্যবহার হতে পারে। যদিও দলীয় সূত্রে দাবি করা হয়, অরূপ আর কোষাধ্যক্ষ নন; তাঁর জায়গায় ইতিমধ্যেই শুভাশিস চক্রবর্তী দায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে অরূপের সেই আবেদন কার্যকর হয়নি। এরপরই বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় প্রকাশ্যে তৃণমূলের তহবিলের উৎস নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। সাংবাদিক বৈঠকে তিনি বলেন, "এই টাকাগুলো যে কাটমানির নয়, তোলাবাজির নয় বা দুর্নীতির নয়, তা প্রমাণ করা যাচ্ছে না। তাই নিরপেক্ষ তদন্ত প্রয়োজন।" তাঁর শিবিরের বিধায়কেরা বিধাননগর সাইবার থানায় লিখিত অভিযোগও দায়ের করেন।
সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু হয়েছে বলে সূত্রের দাবি। আর তদন্তের প্রথম বড় পদক্ষেপ হিসেবেই ফ্রিজ করা হয়েছে তৃণমূলের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট। রাজনৈতিক মহলের মতে, ভোট-পরবর্তী ভাঙনের আবহে এই আর্থিক ধাক্কা তৃণমূলের জন্য নতুন করে অস্বস্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।