পুরুলিয়ায় মমতা। চৈত্রের বাতাসে বিজেপি বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ল মমতার বক্তব্যে। এমনিতেই পুরুলিয়া বর্তমানে শাসকদলের কঠিন ঠাঁই। ২০১৬ সালের নির্বাচনে পুরুলিয়ার ৯ টি বিধানসভার ৭ টি ছিল তৃণমূলের দখলে। কিন্তু ২০২...
পুরুলিয়ায় মমতা। চৈত্রের বাতাসে বিজেপি বিদ্বেষ ছড়িয়ে পড়ল মমতার বক্তব্যে। এমনিতেই পুরুলিয়া বর্তমানে শাসকদলের কঠিন ঠাঁই। ২০১৬ সালের নির্বাচনে পুরুলিয়ার ৯ টি বিধানসভার ৭ টি ছিল তৃণমূলের দখলে। কিন্তু ২০২১ সালে পরিস্থিতি বদলেছে। বিজেপি এই নির্বাচনে জিতে নেয় জেলার ৬ টি আসন। পুরুলিয়া থেকে চারটি আসন হারায় তৃণমূল। এ আবহেও মানবাজারে শেষ দুটি বিধানসভা নির্বাচনে ঘাসফুলের পতাকা উড়িয়েছিলেন সন্ধ্যারানি টুডু। এবারেও প্রার্থী তিনিই।
রবিবার মমতার দুটি জনসভার একটি পুরুলিয়ার মানবাজারে। সন্ধ্যারানি টুডুর সমর্থনে। কিছুদিন আগেও তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের বিদায়ী মন্ত্রী সন্ধ্যারানি টুডুকে যাতে প্রার্থী না করা হয়, তার জন্য সুর চড়িয়েছিলেন দলের বিক্ষুব্ধ নেতা-কর্মীরা। রাজ্য নেতৃত্বকে বিক্ষোভ সামলাতে হস্তক্ষেপ করতে হয়েছিল। রবিবার মানবাজার সভামঞ্চ থেকে মমতার স্বভাবসিদ্ধ ঘোষণা, প্রার্থী তিনিই। এই একটি ঘোষণাই হয়তো বিভাজনের সমাপ্তি ঘটাল। সন্ধ্যারানি টুডুর ওপর নিজের ভরসার স্ট্যাম্প দিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
এদিন পুরুলিয়ায় মমতা কল্পতরু। সকলের কাচা বাড়ি পাকা করে দেবার অঙ্গীকার করেন তিনি। অভিভাবকের মত জানান, 'যুবকদেরও তো হাতখরচ লাগে, যারা যুবসাথীর টাকা পাননি, তাদের আবেদনে কিছু গোলমাল থাকলে তা ঠিক করাতে হবে'। মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, 'গত পাঁচ বছর মহিলারা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার পাচ্ছেন। তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলে সারা জীবন মহিলারা এই সুবিধা পাবেন। এককালে পুরুলিয়ায় ছিল জঙ্গলের রাজত্ব। জঙ্গলের কালো পিঁপড় খেয়ে দিন গুজরান করতেন এখানকার ভূমিপুত্ররা। তৃণমূল পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে । শান্তি ফিরিয়েছে জঙ্গলমহলে'।
একই সঙ্গে বিজেপি সরকারের চার্জশিট রাজনীতির বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানালেন তৃণমূল সুপ্রিমো। পুরুলিয়া সভা শেষে স্থানীয় গানের সঙ্গে, নাচের তালে পা মেলান মমতা। মানবাজারে তৃণমূলের পাল্লা ভারি ছিল গত দুটি বিধানসভা নির্বাচনে। এবারে দলের অন্দরে প্রার্থী নিয়ে ক্ষোভ থাকলেও, মমতার উপস্থিতি সেই ক্ষোভে মলমের কাজ করবে বলে মনে করছেন দলের একাংশ।rn