পেটের টানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের ভাতাড় বিধানসভার বামননারা অঞ্চলের বাসিন্দা সন্তোষ কর্মকার। রঙের কাজ করেই সংসার চালাতেন তিনি। কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন ব্যাঙ্গালোরে। কিন্তু যে মানুষটি প...
পেটের টানে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের ভাতাড় বিধানসভার বামননারা অঞ্চলের বাসিন্দা সন্তোষ কর্মকার। রঙের কাজ করেই সংসার চালাতেন তিনি। কাজের খোঁজে গিয়েছিলেন ব্যাঙ্গালোরে। কিন্তু যে মানুষটি পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে ঘর ছেড়েছিলেন, শেষ পর্যন্ত তাঁরই নিথর দেহ ফেরানোর চিন্তায় দিশেহারা হয়ে পড়ে পরিবার।
সূত্রের খবর, ব্যাঙ্গালোরে রঙের কাজ করার সময় তিনতলা বাড়ির ছাদ থেকে পড়ে মৃত্যু হয় সন্তোষ কর্মকারের। আচমকা এই মর্মান্তিক খবর পৌঁছতেই কার্যত ভেঙে পড়ে তাঁর পরিবার। কিন্তু শোকের মধ্যেও সামনে এসে দাঁড়ায় আরও কঠিন বাস্তব, দূর দক্ষিণ ভারত থেকে প্রিয়জনের দেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার বিপুল খরচ।
দুঃস্থ পরিবারের পক্ষে সেই খরচ বহন করা সম্ভব ছিল না। খবর পৌঁছতেই পরিবারের পাশে দাঁড়ান ভাতাড়ের বিজেপি বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। সূত্রের খবর, তিনি বিষয়টি নিয়ে ওই এলাকার সাংসদ তেজস্বী সূর্যের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। এরপর ব্যাঙ্গালোরে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। মৃতদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া দ্রুত করানোর পাশাপাশি ইন্ডিগো কর্তৃপক্ষের সঙ্গেও কথা বলা হয়। শেষ পর্যন্ত পরিবারের উপর কোনও আর্থিক বোঝা না চাপিয়ে, সম্পূর্ণ নিজের উদ্যোগ ও খরচে সন্তোষ কর্মকারের দেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করেন বিধায়ক সৌমেন কার্ফা।
পরিযায়ী শ্রমিকের জীবনের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হয়তো এখানেই সংসারের জন্য ঘর ছেড়ে হাজার হাজার কিলোমিটার দূরে যেতে হয়। আর কোনও দুর্ঘটনা ঘটলে সেই পরিবার শুধু প্রিয়জনকেই হারায় না, অনেক সময় শেষবারের মতো তাঁকে ঘরে ফিরিয়ে আনার সামর্থ্যটুকুও থাকে না। সন্তোষ কর্মকারের পরিবারের ক্ষেত্রেও সেই আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
সেই কঠিন সময়ে বিধায়কের এই উদ্যোগ শুধু একটি মৃতদেহ বাড়িতে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নয়, শোকস্তব্ধ একটি পরিবারের পাশে দাঁড়ানোরও বার্তা। রাজনীতি বা মতের বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে বিপদের দিনে মানুষের পাশে দাঁড়ানোই যে জনপ্রতিনিধির আসল দায়িত্ব, সন্তোষ কর্মকারের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে সেই বার্তাই দিলেন ভাতাড়ের বিধায়ক সৌমেন কার্ফা। একজন মানুষ আর ফিরবেন না। তাঁর জায়গা পূরণও হবে না। কিন্তু তাঁর শেষ যাত্রাপথে পরিবারের অসহায়তা অন্তত একটু কমল। আর সেই মানবিকতার হাত ধরেই ব্যাঙ্গালোর থেকে সন্তোষ কর্মকার ফিরছেন, নিজের বাড়িতে, নিজের মানুষের কাছে।