ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে ফের রহস্যজনক মৃত্যু পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম প্রসন্ন কুমার (৩৯)। পুরুলিয়ার চ্যাকা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। পরিবারের আর্থিক সঙ্কট মেটাতে বেঙ্গালুরুত...
ভিন রাজ্যে কাজে গিয়ে ফের রহস্যজনক মৃত্যু পুরুলিয়ার পরিযায়ী শ্রমিকের। মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের নাম প্রসন্ন কুমার (৩৯)। পুরুলিয়ার চ্যাকা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন তিনি। পরিবারের আর্থিক সঙ্কট মেটাতে বেঙ্গালুরুতে পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করতেন তিনি। আর কয়েকদিন পরেই বাড়িতে ফেরার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু তার আগেই মৃত্যুর খবর পৌঁছায় বাড়িতে। ঘটনার শোকের ছায়া নেমেছে পরিবারে।
পরিবার সূত্রে খবর, শেষ ১৯ তারিখ প্রসন্ন যোগাযোগ করেছিল বাড়িতে। খুব তাড়াতাড়ি তিনি বাড়িতে ফিরবেন বলেও জানিয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই তাঁর মৃত্যুর খবর এসে পৌঁছায় বাড়িতে। নেপথ্যে কোন ষড়যন্ত্র রয়েছে বলেই মনে করছে মৃতের পরিবার। এদিকে ঘটনার খবর পেয়েই মৃত পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ভিন রাজ্য থেকে দ্রুত মৃতদেহ ফিরিয়ে আনা হবে বলেও পরিবারকে আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কইসঙ্গে আইনি সহায়তা থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সাহায্য করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
বস্তুত, যথেষ্ট অভাবের সংসার প্রসন্নের। আর সেই অভাব দূর করতেই পরিবার ছেড়ে ভিনরাজ্যে পাড়ি দিয়েছিলেন তিনি। জানা যাচ্ছে প্রসন্নের বড় ছেলে এই বছর মাধ্যমিক পরীক্ষা দিয়েছে। ছোটজন নবম শ্রেণীতে পড়ে। তাদের রেখেই গত বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে বেঙ্গালুরুতে গিয়েছিলেন প্রসন্ন। আর এই গোটা এক বছরের মধ্যে একবারও বাড়ি ফেরার সুযোগ পাননি তিনি। অবশেষে তাঁর বাড়ি ফেরার সুযোগ হলেও পরিবারকে দেখার সুযোগ হল না।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনা নতুন না। এর আগেও বহু পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে ভিন রাজ্যে। শুধুমাত্র বাংলার শ্রমিক হওয়ার অভিযোগে অত্যাচারিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে বহু বিজেপি শাসিত রাজ্যে। সম্প্রতি মহারাষ্ট্রের পুণেতে কাজে গিয়ে 'খুন' হয়েছিলেন কুড়মি পরিযায়ী শ্রমিক সুখেন মাহাতো। তার বাড়ি পুরুলিয়ার জঙ্গলমহল বরাবাজারের তুমড়াশোলের বাঁধডিতে। সিএ ঘটনাকে কেন্দ্র করেই তুমুল হইচই শুরু হয়েছিল রাজ্যে।