ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর ব্লকে। বছরের পর বছর ভোট দেওয়ার পরেও হঠাৎ কেন তালিকা থেকে নাম উধাও হল, তা নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন হাজার ...
ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়েছে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সালানপুর ব্লকে। বছরের পর বছর ভোট দেওয়ার পরেও হঠাৎ কেন তালিকা থেকে নাম উধাও হল, তা নিয়ে চরম আতঙ্কে রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। এই পরিস্থিতিতে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে জেলা শাসক দপ্তরে পাঠালো সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস।
অভিযোগ উঠেছে, সালানপুর ব্লকের বহু মানুষ যথাযথভাবে এসআইআর আবেদন এবং প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়া সত্ত্বেও চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় তাঁদের নাম ওঠেনি। ভুক্তভোগীদের দাবি, তাঁরা এই দেশেরই ভূমিপুত্র এবং কয়েক দশক ধরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিচ্ছেন। হঠাৎ এই নাম বাদ পড়াকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষের মধ্যে নাগরিকত্ব খোয়ানোর আতঙ্ক দানা বেঁধেছে।
আজ জেলা শাসক দপ্তরে পৌঁছে ট্রাইবুনালে আর্জি জানান নাম বাদ পড়া কয়েকশ মানুষ। তাঁদের মধ্যে এক বৃদ্ধাকেও দেখা যায়, যিনি অত্যন্ত অসহায়ভাবে নিজের নথিপত্র হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। নাম বাদ পড়া মানুষদের অভিযোগ সঠিক তথ্য দেওয়ার পরেও 'ইচ্ছাকৃতভাবে' ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের নজরদারির অভাব এবং প্রশাসনিক গাফিলতির কারণে সাধারণ মানুষকে হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।
জন্মসূত্রে ভারতীয় হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের পরিচয় নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এই সঙ্কটের দিনে সাধারণ মানুষের সহায়তায় এগিয়ে এসেছে সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় নির্দেশে বারাবনি বিধানসভার বিদায়ী বিধায়ক বিধান উপাধ্যায়ের সহযোগিতায় ভুক্তভোগীদের সমস্ত ফর্ম পূরণ করা এবং তাঁদের জেলা শাসক দপ্তরে নিয়ে যাওয়ার জন্য বাসের ব্যবস্থা করা হয়।
সালানপুর ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি ভোলা সিং সরাসরি কেন্দ্র সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিঁধে বলেন নির্বাচন কমিশন এবং কেন্দ্রের বিজেপি সরকার জেনেবুঝে সাধারণ মানুষের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিচ্ছে। এই ধরনের ষড়যন্ত্র করে নির্বাচনে জয়ী হওয়া যায় না। যাদের নাম বাদ পড়েছে, তৃণমূল কংগ্রেস তাঁদের পাশে আছে। বিধায়ক বিধান উপাধ্যায় এবং আমাদের দল শেষ পর্যন্ত এই লড়াই চালিয়ে যাবে।"
তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, যতক্ষণ না পর্যন্ত প্রত্যেক যোগ্য নাগরিকের নাম পুনরায় ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে, ততক্ষণ তাঁরা এই আন্দোলন থেকে পিছিয়ে আসবেন না।