কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনা স্থলে পৌছয় এসআইটি-র সদস্যরা। চেক পোস্ট থেকে সিগন্যাল খতিয়ে দেখেন তারা। নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার...
কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দুর্ঘটনার তদন্তে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। বৃহস্পতিবার দুর্ঘটনা স্থলে পৌছয় এসআইটি-র সদস্যরা। চেক পোস্ট থেকে সিগন্যাল খতিয়ে দেখেন তারা। নর্থ ফ্রন্টিয়ার রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুর্ঘটনার একটি রিপোর্ট পেশ করা হল। যেখানে দেখা যাচ্ছে রাঙাপানি স্টেশন মাস্টার ইস্যু করেছিলেন দুটো ফর্ম। একই সাথে দিয়েছিলেন TA-312 ও T-369(3B)।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, রাঙাপানি স্টেশন মাস্টারের ইস্যু করা একটি ফর্মে অনুমোদন হল সিগন্যাল পোস্ট পেরনোর অনুমতি। অপর ফর্মের মাধ্যমে মালগাড়ির চালক বুঝলেন চটেরহাট অবধি লাইন পরিষ্কার। রাঙাপানি স্টেশনের স্টেশন মাস্টার মালগাড়ির ট্রেনকে পেপার লাইন ক্লিয়ারেন্স দিলেন ৮:৩৫ মিনিটে। মালগাড়ির ট্রেনের চালক সেই কাগজ নিয়ে ট্রেন রওনা করলেন ৮:৪২ মিনিটে। রাঙাপানি স্টেশন থেকে চটেরহাট স্টেশন অবধি ন'টি সিগন্যাল পোস্টের জন্য ট্রেন ওই কাগজ নিয়ে চলার অনুমতি দেন রাঙাপানির স্টেশন মাস্টার। এই দুর্ঘটনার তদন্তে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হল অটোমেটিক সিগন্যাল ৬৫৪,৬৫২,৬৫০ নম্বর পোস্ট। সূত্রের খবর, দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬৫২ নম্বর ও ৬৫০ নম্বর সিগন্যাল পোস্টের মাঝে। প্রাথমিক ভাবে তদন্তে উঠে এসেছে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেসের গতি নিয়ন্ত্রিত ছিল। এর সাথেই লেভেল ক্রসিং দেখে ট্রেন দাঁড় করিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল চটেরহাটের দিকে। প্রথম লেভেল ক্রসিং পেরিয়ে দ্বিতীয় লেভেল ক্রসিংয়ের আগে ট্রেন এগোলেও গতি ভীষণ কম করে রাখা হয়েছিল। এই কারণে ৮:২৭ মিনিটে ছাড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস দূর্ঘটনাস্থলে ছিল ৮:৫৫ মিনিটে।
বিষেশজ্ঞরা মনে করছেন, মালগাড়ির চালক তাঁর কাছে থাকা পেপার লাইন ক্লিয়ারেন্স দেখে ভেবে ছিলেন চটেরহাট পর্যন্ত লাইনে কোনো গাড়ি নেই। সে কারণেই হয়ত নিজের ইচ্ছে মতো গতিতে ট্রেন চালিয়েছেন। প্রাথমিক তদন্তে দেখা যায় আপাতত গতি আর লেভেল ক্রসিং এর ওপরেই দাঁড়িয়ে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।