দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। কোন্নগর কানাইপুরে তাঁর বাড়িতে বসে প্রাক্তন মন্ত্রী জানান,আর মাঠ...
দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক জীবনের পর সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন তৃণমূলের প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী স্নেহাশিস চক্রবর্তী। কোন্নগর কানাইপুরে তাঁর বাড়িতে বসে প্রাক্তন মন্ত্রী জানান,আর মাঠে ময়দানে নেমে রাজনীতি করবেন না। পাশাপাশি তিনি আর কোনও দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবেন না বলেও জানান। তবে লেখালেখি এবং রাজনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাবেন।
ছাব্বিশের নির্বাচনে হুগলির জাঙ্গীপাড়া বিধানসভা থেকে কম ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থীর কাছে পরাজিত হয়েছেন স্নেহাশিস চক্রবর্তী। তারপর থেকেই তাঁকে আর রাজনীতির ময়দানে বিশেষ দেখা যায়নি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডাকা কর্মসূচিতেও যোগ দেননি। এমতাবস্থায় বৃহস্পতিবার তিনি পরিষ্কার জানালেন 'অনেক হয়েছে আর রাজনীতি নয়'।
প্রাক্তন মন্ত্রীর কথায়, বর্তমান রাজনীতির সংস্কৃতি ও দলের কাজের ধরন তাঁর ভাবনার সঙ্গে খাপ খাচ্ছে না। একই সঙ্গে দলের সাংগঠনিক কাঠামো, নেতৃত্বের সঙ্গে কর্মীদের যোগাযোগ এবং নির্বাচনী পরাজয়ের কারণ নিয়েও একগুচ্ছ মন্তব্য করেন তিনি।
নির্বাচনে দলের পরাজয় প্রসঙ্গে স্নেহাশিসের মন্তব্য, পরাজয়ের পরে সমালোচনা হওয়া স্বাভাবিক। তাঁর মতে, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের হয়ে যথাসাধ্য চেষ্টা করলেও জেলা স্তরের নেতৃত্ব এবং সংগঠনের কর্মীদের সঙ্গে আরও বেশি সরাসরি যোগাযোগ রাখা উচিত ছিল। তিনি বলেন, 'অভিষেক তাঁর মত চেষ্টা করেছেন। তবে জেলা স্তরের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ আরও বেশি থাকলে ভালো হতো। সেই জায়গাটাই সবচেয়ে বড় খামতি ছিল।' তিনি আরও দাবি করেন, দলের অনেক নেতা-কর্মী সরাসরি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে পৌঁছতে পারতেন না, যা সংগঠনের মধ্যে একটি বড় ঘাটতি তৈরি করেছিল।
সাক্ষাৎকারে নিজের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক অবস্থান সম্পর্কে স্নেহাশিস চক্রবর্তী স্পষ্ট জানান, তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফিরতে চান না। তাঁর কথায়, 'দলের সমর্থক বা সাধারণ কর্মী হিসেবে থাকা যায়, কিন্তু মাঠে নেমে সক্রিয় রাজনীতি করার ইচ্ছা আর নেই। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারছি না।'
বর্তমান রাজনীতির ধরন নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বলেন, 'আজ একজনের বিরুদ্ধে বলতে হবে, কাল অন্যজনের বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক বিরোধিতা করতে গিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহার করতে হবে, ব্যক্তিগত আক্রমণ করতে হবে—এই রাজনীতি আমি পছন্দ করি না।'
রাজ্যে ক্ষমতার পরিবর্তন প্রসঙ্গেও পরিমিত সুরে মন্তব্য করেন তিনি। বলেন, 'মানুষ শুভেন্দু অধিকারীকে ভোট দিয়েছে। তিনি লড়াকু নেতা এবং মানুষের সমর্থন নিয়েই ক্ষমতায় এসেছেন। নতুন সরকারকে কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। তারা মানুষের প্রত্যাশা কতটা পূরণ করতে পারে, সেটাই এখন দেখার।'