বেঁচে আছেন মা। কিন্তু তাঁর জাল ডেথ সার্টিফিকেট বের করে ব্যাংক থেকে পেনশনের যাবতীয় টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠল 'গুণধর' ছেলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় লিলুয়া থানার পুলিসের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ছ...
বেঁচে আছেন মা। কিন্তু তাঁর জাল ডেথ সার্টিফিকেট বের করে ব্যাংক থেকে পেনশনের যাবতীয় টাকা তুলে নেওয়ার অভিযোগ উঠল 'গুণধর' ছেলের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই এই ঘটনায় লিলুয়া থানার পুলিসের হাতে গ্রেফতার হয়েছেন ছেলে তপন কুমার দাস। ধৃতকে আজ হাওড়া আদালতে তোলা হলে তাঁকে পাঁচদিন পুলিসি হেফাজতের নির্দেশ দেয় আদালত।
লিলুয়ার চকপাড়ার বাসিন্দা বীণাপানি দাস (৭৮) বাড়িতে একাই থাকেন। অসুস্থ ওই বৃদ্ধাকে দেখভাল করেন আয়া কৃষ্ণা সেন। বৃদ্ধা জানিয়েছেন তাঁর বড় ছেলে থাকেন হায়দ্রাবাদে। ডিফেন্সে চাকরি করেন। আর ছোট ছেলে তপন কুমার দাস পশ্চিম মেদিনীপুরের শালবনিতে ভারত সরকারের ট্যাকশালে কাজ করেন। বৃদ্ধার অভিযোগ, তাঁর স্বামী ক্ষীরোদচন্দ্র দাসের মৃত্যুর পর ছেলে তপন তাঁর উপর অকথ্য অত্যাচার এবং গালিগালাজ শুরু করে। এমনকি মেরে তাঁর পা ভেঙে দেয়। শুধু তাই নয়, পেনশনের জমানো যাবতীয় টাকা সে তুলে নেয় বলেও অভিযোগ
জানা যাচ্ছে, ১৯৯৬ সালে বৃদ্ধার স্বামী কাস্টমসের চাকরি থেকে অবসর নেওয়ার পর একটা মোটা অঙ্কের পেনশন জমা হয় ব্যাঙ্ক অ্য়াকাউন্টে। ২০১৮ সালে স্বামীর মৃত্যুর পর সেই অ্য়াকাউন্টে বীণাপাণি দাসের নামে চালু হয়। অন্যদিকে এই অ্য়াকাউন্টের দেখভালের দায়িত্ব ছিল অভিযুক্ত তপন দাসের উপর।
অভিযোগ, বাবার মৃত্যুর প্রমাণপত্রের সঙ্গে জীবিত মায়ের মৃত্যুর জাল নথি ব্যাংকে দেখিয়ে পেনশন বন্ধ করে দিয়েছিল তপন। সেই সঙ্গেই বৃদ্ধার আরও অভিযোগ ওই অ্যাকাউন্টে থাকা যাবতীয় টাকা সে নিজের নামে তুলে নিয়েছে। আর এই ঘটনা জানতেই নিজের ছেলের নামে লিলুয়া থানার পুলিসের কাছে দ্বারস্থ হন বৃদ্ধা। লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার লিলুয়া থানার পুলিস তপন কুমার দাসকে গ্রেফতার করে। যদিও ধৃত তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে দাদা চক্রান্ত করছে বলেও দাবি তুলেছেন তপন। তাঁর দাবি তিনিই মা'কে দেখাশোনা করতেন এবং কোনদিন মারধরও করেননি।
এদিকে ছেলের গ্রেফতারির খবরে খুশি মা বিনাপানি দাস। তিনি বলেন ছেলে আমাকে ঠেলে ফেলে দিয়ে পা ভেঙে দিয়েছে। প্রচুর মারধর এবং অত্যাচার করত। আমি তার কঠোর শাস্তি চাই। তিনি আরো চান তার বন্ধ পেনশন যেন ফের চালু করে সরকার।