রাজ্যের মেডিকেল কলেজগুলিতে শিক্ষক-চিকিৎসক নিয়োগের জন্য তৈরি হওয়া ১০২৫ জনের প্যানেল বাতিল করল স্বাস্থ্য দপ্তর। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইন্টারভিউ দিয়ে প্যানেলভুক্ত হওয়া শতাধিক নয়, এক হাজারেরও বে...
রাজ্যের মেডিকেল কলেজগুলিতে শিক্ষক-চিকিৎসক নিয়োগের জন্য তৈরি হওয়া ১০২৫ জনের প্যানেল বাতিল করল স্বাস্থ্য দপ্তর। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে ইন্টারভিউ দিয়ে প্যানেলভুক্ত হওয়া শতাধিক নয়, এক হাজারেরও বেশি চিকিৎসকের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, আগের তৃণমূল সরকারের আমলে তৈরি হওয়া ওই প্যানেলকে ঘিরে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ উঠেছিল। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই প্যানেলটি বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য বিজ্ঞপ্তিও জারি করা হয়েছে। উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসে স্বাস্থ্য দপ্তর রাজ্যের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজে শূন্যপদের তালিকা প্রকাশ করেছিল। সেই তালিকা অনুযায়ী, প্রফেসর পদে ২২৬টি, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর পদে ৪৭১টি এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর পদে ৩২৮টি শূন্যপদে নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। মোট ১০২৫টি পদে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে নিয়োগের জন্য চূড়ান্ত প্যানেলও তৈরি হয়েছিল। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর ওই প্যানেলের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অভিযোগ, মেধার বদলে প্রভাব ও ঘনিষ্ঠতার ভিত্তিতে একাংশের নাম প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। যদিও এই অভিযোগের বিষয়ে আগের সরকারের তরফে কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
নতুন বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট পদগুলিতে নিয়োগের জন্য আগামী ১৫ জুন থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে। আবেদন জমা দেওয়ার শেষ দিন ৩০ জুন। স্বাস্থ্য দপ্তরের দাবি, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে সম্পন্ন করা হবে। এদিকে, প্যানেল বাতিলের সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বহু প্যানেলভুক্ত চিকিৎসক। তাঁদের দাবি, সমস্ত নিয়ম মেনেই তাঁরা ইন্টারভিউয়ে অংশ নিয়েছিলেন এবং চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা পেয়েছিলেন। ফলে কোনও ব্যক্তিগত দায় না থাকা সত্ত্বেও তাঁদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে।
এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে ইতিমধ্যেই চিকিৎসক মহল এবং রাজনৈতিক অন্দরে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। এখন নজর থাকবে, নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া কতটা দ্রুত এবং স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করতে পারে স্বাস্থ্য দপ্তর।