২০০২ সালের ১ জানুয়ারি অবিভক্ত মেদিনীপুর জেলা ভেঙে তৈরি হয়েছিল পশ্চিম মেদিনীপুর। বিপ্লবের ধাত্রীভূমি পশ্চিম মেদিনীপুর। জ্ঞানের পীঠস্থান পশ্চিম মেদিনীপুর। এই জেলা ক্ষুদিরামের জেলা, এই জেলা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের জেলা। পশ্চিম মেদিনীপুরেও এখন ভোট হাওয়া। কোন দিকে আস্থা রাখছে এখানকার মানুষ?
চুয়ার ও ভূমিজ বিদ্রোহের ইতিহাস আজও এখানে অমলিন। জেলার পশ্চিমে লাল মাটি এবং শাল পলাশে জঙ্গল। শিলাবতীর তীরে অবস্থিত গনগনি বাংলার গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন নামে পরিচিত। এই জেলার উত্তরে বাঁকুড়া এবং হুগলি, পূর্বে পূর্ব মেদিনীপুর ও হাওড়া, দক্ষিণে ঝাড়গ্রাম ও ওড়িশা এবং পশ্চিমে ঝাড়খন্ড। পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় মোট ১৫ টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে।
পশ্চিম মেদিনীপুর মানে বিজেপি-তৃণমূলের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। পনেরোটি বিধানসভার মধ্যে আলোচনা করব নির্দিষ্ট কয়েকটি বিধানসভা নিয়ে, যে বিধানসভা গুলি বিগত কয়েকটি টার্মে জেলার রাজনৈতিক দিক নির্দেশ করেছে।
দাঁতন
এই বিধানসভা কেন্দ্রে ২০১৬ এবং ২০২১ সালে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূল প্রার্থী বিক্রমচন্দ্র প্রধান ।
কেশিয়ারি
কেশিয়ারি বিধানসভা কেন্দ্রে ২০১৬ এবং ২০২১ সালে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূলের পরেশ মুর্মু।
খড়গপুর সদর
২০১৬ সালে খড়গপুর সদর কেন্দ্র থেকে জয় পেয়ছিলেন বিজেপির দিলীপ ঘোষ। ২০২১ সালে তিনি প্রার্থী না হওয়ায়। এই কেন্দ্র থেকে বিজেপি প্রার্থী হিরণ চট্টোপাধ্যায় জয় পেয়েছিলেন।
খড়গপুর
২০১৬ ও ২০২১ সালে তৃণমূল থেকে জয় পেয়েছিলেন দীনেন রায়।
সবং
সবং কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয় পেয়েছিলেন জাতীয় কংগ্রেসের মানসরঞ্জন ভুঁইয়া। ২০১৬ সালে মানসরঞ্জন ভুঁইয়া তৃণমূলে যোগ দিলে সবং এ উপনির্বাচন হয়। উপনির্বাচনে জেতেন তৃণমূলের গীতারানি ভুঁইয়া। ২০২১ সালে সবং কেন্দ্রে তৃণমূলের পতাকায় দাঁড়ান মানস ভুঁইয়া। এবং মানুষ তাকে বিধায়ক হিসেবে বেছে নেয়।
পিংলা
২০১৬ সালে পিংলা কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তৃণমূলের সৌমেন মহাপাত্র। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয় লাভ করেন তৃণমূলের অজিত মাইতি
ডেবরা
ডেবরা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূলের প্রার্থী সেলিমা খাতুন। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয় পান তৃণমূলের হুমায়ুন কবীর
ঘাটাল
ঘাটাল কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয় পান তৃণমূলের শঙ্কর দলুই। ২০২১ সালে এই কেন্দ্রে পালাবদল ঘটে জয়ী হন বিজেপির শীতল কপাট।
গড়বেতা
২০১৬ সালে গড়বেতা কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের আশীষ চক্রবর্তী। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হন তৃণমূলের উত্তরা সিংহ হাজরা।
শালবনী
শালবনী বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয় পেয়েছিলেন তৃণমূলের শ্রীকান্ত মাহাতো। ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শ্রীকান্ত মাহাতো।
কেশপুর
এই বিধানসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৬ এবং ২০২১ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের শিউলি সাহা।
মেদিনীপুর
এই কেন্দ্র থেকে ২০১৬ সালে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মৃগেন্দ্রনাথ মাইতি । ২০২১ সালে এই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের জুন মালিয়া।
পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় দুটি লোকসভা কেন্দ্র মেদিনীপুর আর ঘাটাল। ঝাড়গ্রাম আর পুরুলিয়াতেও পশ্চিম মেদিনীপুরের কিছু অংশ রয়েছে। এখানে লড়াই মূলত দুই ফুলের। জেনে নেওয়া যাক লোকসভায় এই জেলা কী ফল করেছে?
মেদিনীপুর
মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রে ২০১৯ সালে জয় পেয়েছিলেন বিজেপির দিলীপ ঘোষ। ২০২৪ সালে দিলীপ ঘোষ এই কেন্দ্র থেকে দাঁড়াননি দাঁড়িয়েছিলেন বিজেপির অগ্নিমিত্রা পল। ২০২৪ সালে অগ্নিমিত্রাকে হারিয়ে এই কেন্দ্রে জিতেছিলেন তৃণমূলের জুন মালিয়া
ঘাটাল
ঘাটাল লোকসভা কেন্দ্র থেকে ২০১৯ এবং ২০২৪ সালে জিতেছিলেন তৃণমূলের দীপক অধিকারী বা দেব।
পশ্চিম মেদিনীপুরে রয়েছে অনুন্নয়ন। এই জেলায় রয়েছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের স্বপ্ন। ঠিক কোন কোন ইস্যুর ওপর নির্ভর করে ভোট হবে এই জেলায়?
এসআইআর ইস্যু নিয়ে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। প্রশাসনের আধিকারিকদের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী রাজনৈতিক শিবির। এই জেলায় ধীরে ধীরে বিজেপি তাদের সাংগঠনিক শক্তি বৃদ্ধি করছে। ঘাটাল, সবং, পিংলা ও নারায়ণগঞ্জ ব্লকের বড় অংশ বর্ষাকালে শিলাবতী ও কেলেঘাই নদীর বন্যায় প্লাবিত হয়। এতে ব্যাপক ফসলহানি ও ঘরবাড়ির ক্ষয়ক্ষতি হয়। একদিকে বন্যার দাপট, অন্যদিকে জেলাটির পশ্চিমাঞ্চলে, বিশেষ করে মেদিনীপুর সদর ও আশেপাশের এলাকায় জলের অভাব দেখা দেয়। নদীমাতৃক এলাকা হলেও, কৃষকরা সেচের পর্যাপ্ত সুযোগ পান না। জেলায় বড় কোনো শিল্পাঞ্চল না থাকায় কর্মসংস্থানের অভাব রয়েছে, যার ফলে স্থানীয় যুবকদের বাইরে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতে যেতে হয়। জেলার অনেক গ্রামীণ এলাকায়, বিশেষ করে জঙ্গলমহলের আদিবাসী পরিবারগুলো উন্নত রাস্তা, স্বাস্থ্য ও সুপেয় জলের সমস্যায় ভুগছে। লোধা-শবরসহ অন্যান্য আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে শিক্ষার হার এখনো তুলনামূলকভাবে কম।