গত ১৫ বছরে বাংলায় নতুন বছর এসেছে ১৫ বার। কিন্তু অদ্যাবধি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভোট-প্রার্থনা করতে দেখা যায়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্তত তেমন কোনও দৃষ্টান্ত মনে করতে পারছেন না পর্যবেক্ষকরা। এমন...
গত ১৫ বছরে বাংলায় নতুন বছর এসেছে ১৫ বার। কিন্তু অদ্যাবধি নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে ভোট-প্রার্থনা করতে দেখা যায়নি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। অন্তত তেমন কোনও দৃষ্টান্ত মনে করতে পারছেন না পর্যবেক্ষকরা। এমনকি, একুশের বিধানসভায় যখন বাংলায় গেরুয়া হাওয়া বইছিল প্রবলভাবে, তখনও নয়। কিন্তু, এবার তার ব্যতিক্রম হল। নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, "আপনার একটা ভোট দয়া করে দিন"।
কী বলেছেন মমতা?
সমাজমাধ্যমে পোস্ট করে নববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে একটি ভিডিয়ো-ও প্রকাশ্যে এসেছে। সেখানে 'দিল্লির জমিদারদের' নিশানা করে তৃণমূলকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন:
"শুভ নববর্ষে সকলকে শুভনন্দন জানাচ্ছি। সবাইকে অনেক-অনেক নমস্কার। ভালো থাকবেন সকলে। বাংলার একটা ঐতিহ্য, বাংলার একটা গরিমা আছে। এটা আমাদের বাংলার নববর্ষ। এবং সাথে-সাথে অনেক রাজ্যেরও নববর্ষ। আমি সকলকে বলবো, বাংলার সম্প্রীতি ও সংস্কৃতির পীঠস্থান এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ও স্বাধীনতা আন্দোলনের পীঠস্থান। বাংলা সংস্কৃতির পীঠস্থান। বাংলার সর্বধর্ম সমন্বয়ের পীঠস্থান। সংহতির পীঠস্থান। আপনারা দেখেছেন, কেন্দ্রীয় বঞ্চনা সত্ত্বেও ১০৫ টা সোশাল স্কিম করেছি, জন্ম থেকে মৃত্যু অবধি সব মানুষের জন্য। দিল্লির জমিদাররা অনেক অত্যাচার করছে। ভোট কাটছে। অনধিকার প্রয়োগ করছে। বিজেপি ভ্যানিশ ওয়াশিং মেশিন। সব এজেন্সি দিয়ে বাংলার ওপর জুলুম ও অত্যাচার করছে। এই অত্যাচারের বদলা নিন। আপনাদের কাছে অনুরোধ, আপনার একটা ভোট দয়া করে দিন। আমি নিজে এখান থেকে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গিয়ে, ৩২ লক্ষ বাদ দেওয়া নামকে (ভোটার তালিকায়) তুলতে পেরেছি। বাদবাকি যাঁরা আছে, আজ না-হোক কাল, তাঁদের নামও নিশ্চয় উঠবে। যেহেতু ট্রাইবুনাল চলছে। যাঁদের ভোট বাদ গেছে, যাঁরা আত্মহত্যা করেছেন এসআইআরের জন্য, তাঁদের জন্য আমার মন কাঁদছে। একটা পরিবারে ৪ জন ভোট দেবেন ১ জন দিবে পারবেন না, সেটা কেউই মেনে নিতে পারেন না। তাই আসুন, দাঙ্গা নয়, রক্ত নয়, সন্ত্রাস নয়, অত্যাচার নয়। ওরা অনেক চমকাচ্ছে দিল্লি থেকে। কোনও চমকানি নয়, আসুন, আমরা নতুন ভোর নিয়ে আসি। শান্তি সম্প্রীতির বার্তা দিয়ে। সংস্কৃতির বার্তা দিয়ে। সকলকে ভালোবেসে এই বাংলাকে যদি ভালো রাখতে হয়, তাহলে মনে রাখবেন, গণতন্ত্রের পীঠস্থান হচ্ছে নির্বাচন। এবং, নির্বাচন হচ্ছে মানুষের উৎসব, ভোটের উৎসব। সেই দিন আপনার ভোটটি দয়া করে, এবার আর অন্য কোনও প্রার্থীকে দেবেন না, জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দেবেন। যে যেখানেই প্রার্থী হোন-না কেন, ২৯৪ টা কেন্দ্রে। যদি আমার নেতৃত্বে সরকার চান, তাহলে আমার প্রত্যেকটা প্রার্থীকে দয়া করে, কোনও কুৎসা অপপ্রচারে কান না-দিয়ে, জোড়াফুল চিহ্নে ভোট দেবেন। সকাল-সকাল ভোট দেবেন। নিজের ভোট নিজে দেবেন। আর ভোটের অধিকার রক্ষা করবেন। জয় হিন্দ, বন্দেমাতরম, জয় বাংলা"।