১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেন মমতা। পরে আঞ্চলিক দলের তকমা ঘুচিয়ে তৈরি হয় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু, কার্যত তা আর সর্বভারতীয় থাকে না। এমতাবস্থায়, বিধানসভায় বি...
১৯৯৮ সালে কংগ্রেস ভেঙে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করেন মমতা। পরে আঞ্চলিক দলের তকমা ঘুচিয়ে তৈরি হয় সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস। কিন্তু, কার্যত তা আর সর্বভারতীয় থাকে না। এমতাবস্থায়, বিধানসভায় বিপর্যয়ের পর পরিষদীয় দল হাতছাড়া হয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপর লোকসভায় ভাঙন ধরেছে। তৃণমূলের ২০ জন সাংসদ বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন। রাজ্যসভা থেকেও একে-একে তৃণমূল সাংসদরা ইস্তফা দিয়েছেন। এই পরিস্থিতিতে, তৃণমূলের ঘাসফুল প্রতীক নিজের হাতে থাকবে কি না তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল যখন সঙ্কুচিত হয়ে কালীঘাট-তৃণমূলে পর্যবসিত হয়েছে, তখন দিল্লিতে তৃণমূলের দফতর খুলতে চলেছে ঋতব্রত-তৃণমূল। প্রসঙ্গত, সর্বভারতীয় তকমা থাকলেও দিল্লিতে এতদিন স্থায়ী কোনও দফতর ছিল না তৃণমূলের। যদিও দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের পদে থাকেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার দিল্লিতে তৃণমূলের বিদ্রোহী-২০-র মুখোমুখি হচ্ছেন বাংলার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সূত্রের খবর তেমনটাই বলছে। যদিও, তাঁদের এখনও ‘তৃণমূলের সাংসদ’ বলা যায় কি না তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে পর্যবেক্ষকদের মধ্যে।
দলত্যাগ-বিরোধী আইনের আওতায় ‘বিদ্রোহী-২০’-র সাংসদ পদ খারিজের আর্জি নিয়ে স্পিকারের কাছে ইতিমধ্যেই দরবার করেছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ও কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। অন্যদিকে, কাকলি ঘোষদস্তিদার ও সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়রাও নিজেদের মতো করে ঘুঁটি সাজিয়েছেন। এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়ার পর তাঁদের নিয়ে জল্পনা তৈরি হয়েছে, এনডিএ-শরিক নয়, সরাসরি বিজেপিতে যোগ দিতে চলেছেন বিদ্রোহী-২০। প্রসঙ্গত, এনসিপিআই স্বীকৃত দল হলেও সংসদে তার কোনও অস্তিত্ব না-থাকায়, বিদ্রোহী-২০-র স্বীকৃতির বিষয়টি ঝুলে রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, মঙ্গলবার ওই ২০ জন সাংসদের মুখোমুখি হতে চলেছেন বিজেপি-শাসিত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। যা, রাজধানীর রাজনৈতিক মহলের কাছে খুবই তাৎপর্যপূর্ণ।