একুশের বিধানসভায় নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশের বিধানসভার আগে মমতার গড় ভবানীপুর থেকেই প্রার্থী হতে চলেছেন শুভেন্দু? পর্যবেক্ষকরা বল...
একুশের বিধানসভায় নন্দীগ্রাম থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে পরাজিত করেছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। ছাব্বিশের বিধানসভার আগে মমতার গড় ভবানীপুর থেকেই প্রার্থী হতে চলেছেন শুভেন্দু?
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, এই রাজনৈতিক জল্পনার পালে হাওয়া লেগেছে তিনটি কারণে। প্রথমটি হল, ভবানীপুর বিধানসভার ভোটার তালিকা থেকে বাদ গিয়েছে ৪৭, ১১২ টি নাম। খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বলতে শোনা গিয়েছে, আড়াই লাখ মতো ভোটার তার মধ্যে ৪৪ হাজার বাদ (তখনও অবধি সংখ্যাটি ৪৪ হাজারের আশপাশে ছিল)!
জল্পনার পালে হাওয়া লাগার দ্বিতীয় কারণটি হল, গত কয়েকমাসে শুভেন্দু অধিকারীর মুখে বারংবার ভবানীপুর নামটি উচ্চারিত হয়েছে এবং সেই সঙ্গে শোনা গিয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি ভবানীপুর থেকে হারাতে চলেছেন। তিনি নিজেই কি ভবানীপুরে মমতার মুখোমুখি হবেন? এই প্রশ্নের উত্তর না-দিয়ে পুরো বিষয়টিকে ধাঁধাময় করে রেখেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু, শুভেন্দুর মুখে বারংবার ভবানীপুর-ভবানীপুর উচ্চারিত হওয়ার জল্পনার পালে ভালোই হাওয়া লেগেছে।
এরপর, যখন এসআইআর-এর চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হয়েছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণা হতে চলেছে, তখন ভবানীপুরে বিজেপির ওয়াররুমে গিয়ে শোনা গেল, "শুভেন্দুদা এখান থেকেই দাঁড়াবেন। পরিকল্পনা রয়েছে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রাক্তন (মুখ্যমন্ত্রী) করেই ছাড়বেন উনি। ওই জন্যে এখানে আগে থেকে অফিস করা হয়েছে। তৃণমূলের ভোট এখানে আর এখানে নেই"।
গত ১২ বছরে, লোকসভা ও বিধানসভা ভোটের চুলচেরা বিচার করে দেখা গিয়েছে, ভবানীপুরের ৮ টি ওয়ার্ডের মধ্যে বেশ কয়েকটিতে পিছিয়ে থেকেছে তৃণমূল। গত বিধানসভায় নন্দীগ্রামে পরাজিত হওয়ার পর ভবানীপুর থেকে উপনির্বাচনে লড়ে বিপুল ভোটে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় জয়ী হন ঠিকই। তবে, পর্যবেক্ষকরা বলছেন, যত সংখ্যাক ভোটের মুখ্যমন্ত্রী জিতেছেন ভবানীপুর থেকে, এসআইআর-পর্বে প্রায় তত নামই হয় বাদ গিয়েছে, নয়তো 'ঝুলে রয়েছে'। এমতাবস্থায়, শুভেন্দু নিজে যদি ভবানীপুর থেকে দাঁড়ান, তাহলে ওই কেন্দ্র থেকে তাঁকে জয়ী করতে গেরুয়া শিবিররে নেতাকর্মীরা প্রাণপণে ময়দানে নামবেন। এমতাবস্থায়, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে ভবানীপুরের ঘাসফুল শিবিরে কোনও অঘটন ঘটে গেলেও যেতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
প্রসঙ্গত, বেশ কয়েকমাস আগে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিরক্তি সহকারে বলতে শোনা গিয়েছিল: ভবানীপুরে বস্তি ভেঙে ফ্ল্যাট বাড়ি তৈরি হচ্ছে। এবং সেখানে জনবিন্যাস যে ক্রমশ পাল্টাচ্ছে, তার ইঙ্গিতও দেন তিনি। পর্যবেক্ষকরা অবশ্য বলছেন, এই মধ্যবিত্ত বাঙালি জনপদে গত তিনদশক ধরে বাঙালিরাই সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছে এবং অবাঙালিরা সংখ্যাগুরু হয়ে উঠেছেন।