এসআইআর আবহে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের লাগাতার বিক্ষোভ ও ব্যারিকেড টপকানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারংবার। এবার হাইকোর্টের কাছে আবেদন করা হল, কমিশনে...
এসআইআর আবহে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরের সামনে তৃণমূলপন্থী বিএলও-দের লাগাতার বিক্ষোভ ও ব্যারিকেড টপকানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বারংবার। এবার হাইকোর্টের কাছে আবেদন করা হল, কমিশনের দফতরের ২০০ মিটারের মধ্যে যেন বিক্ষোভের অনুমতি না-দেয় পুলিস।
হাইকোর্টে শুভেন্দু অধিকারীর মামলা
একুশের বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে কম বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়নি। প্রশ্ন উঠেছে তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে, পুরুলিয়া থেকে ফেরার পথে তাঁর গাড়িতে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। অতি সম্প্রতি, মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয়ের সামনে তাঁকে উদ্দেশ করে অশ্রাব্য গালিগালাজ ও জুতো ছোড়ার অভিযোগ ওঠে। এই পরিস্থিতিতে, শুভেন্দুর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য এদিন হাইকোর্টের নজরে আনেন বিষয়টি।
একটি জনস্বার্থ মামলার পরিপ্রেক্ষিতে, চলতি বছরের ২ ফেব্রুয়ারি কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দেয়, রাজ্যের বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতানেত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্ব কিন্তু রাজ্যকেই নিতে হবে। তারপর থেকে শুভেন্দুকে সেভাবে কোথাও 'আক্রান্ত' হতে হয়নি, বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়নি। কিন্তু চলতি ফেব্রুয়ারির ২৪ তারিখ শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কার্যালয় গেলে তাঁকে উদ্দেশ করে অশ্রাব্য গালিগালাজ, এমনকি, জুতো ছোড়ার অভিযোগও ওঠে। বিজেপির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, তৃণমূলপন্থী বিএলও-রা ওই কাজ করেছিলেন। এমতাবস্থায়, এদিন শুভেন্দুর আইনজীবী বিল্বদল ভট্টাচার্য জানান, "ফেব্রুয়ারির ২ তারিখ কলকাতা হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিল, তার পর থেকে সেভাবে হামলার মুখে পড়তে হয়নি বিরোধী দলনেতাকে। কিন্তু, ২৪ তারিখ ফের তাঁকে লক্ষ্য করে গালিগালাজ, জুতো ছোড়ার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ করা সত্ত্বেও পুলিস কোনও পদক্ষেপ করেনি। হাইকোর্টের দ্বারস্থ হই আমরা। আদালত আজকে রিপোর্ট চেয়ে পাঠায়। কীভাবে ওই জায়গায় বিক্ষোভ দেখানো হয়, তা জানতে চায় পুলিসের কাছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানির আগে পর্যন্ত রাজ্যের বিরোধী দলের নেতানেত্রীদের নিরাপত্তার বিষয়টি রাজ্যকেই দেখতে হবে। রাজ্যের তরফে কী রিপোর্ট দেওয়া হয় দেখা যাক। যদি সেখানে তথ্যের বিকৃতি থাকে, তাহলে আমাদের কাছে ভিডিয়ো রয়েছে, আদালতকে তা দেখাবো"।
এদিন রাজ্যের আইনজীবী আদালতে আবেদন করেন, রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য ৫ মার্চ অবধি সময় দেওয়া হোক। সেইসঙ্গে তাঁর সংযোজন, প্রত্যেক মানুষেরই প্রতিবাদ করার গণতান্ত্রিক অধিকার রয়েছে। সেই অধিকার থেকে কেউ কালো পতাকা দেখাতে পারেন। শুভেন্দু অধিকারী কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী পেয়ে থাকেন। পাশাপাশি রাজ্যের পক্ষ থেকেও তাকে নিরাপত্তা দেওয়া হয়।
শুভেন্দুর আইনজীবী প্রশ্ন তোলেন, নির্বাচন কমিশনের দফতরে গেটের মুখ বন্ধ করে কী করে বিক্ষোভ দেখানোয় অনুমতি দেয় পুলিস? সেই সঙ্গে তাঁর আবেদন, ওই ভবনের ২০০ মিটারের মধ্যে যাতে কোনওরকম বিক্ষোভ বা সভা না হয়, সেই মর্মে নির্দেশ দিক আদালত।