রাজ্যে এসআইআর-পর্ব প্রাথমিকভাবে সমাপ্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশিত। এমতাবস্থায়, বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষ নাম। এবং, খসড়া তালিকায় বাদ যাওয়া ৫৮ লক্ষকে ধরলে বাদ-পড়া বা ডিলিটেড প্রায়...
রাজ্যে এসআইআর-পর্ব প্রাথমিকভাবে সমাপ্ত। চূড়ান্ত ভোটার তালিকাও প্রকাশিত। এমতাবস্থায়, বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষ নাম। এবং, খসড়া তালিকায় বাদ যাওয়া ৫৮ লক্ষকে ধরলে বাদ-পড়া বা ডিলিটেড প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের মুখে কমিশন জানিয়েছিল, চাইলে ডিলিটেড ভোটাররা আবেদন করতে পারবেন।
নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গিয়ে সেই ফর্ম আপলোড করা যাবে। অথবা, ওই ফর্মের ধাঁচে সাদা কাগজে টাইপ করেও কেউ চাইলে জমা দিতে পারেন।
কীভাবে আবেদন করা যাবে?
উপযুক্ত নথি দিয়ে ফের আবেদন করা যাবে। ওই আবেদন পত্রে আবেদনকারীকে সেল্ফ অ্যাটেস্ট করতে হবে। সেইসঙ্গে পাঁচজন ব্যক্তির নাম-সইও দরকার হবে। যাঁরা ওই সংশ্লিষ্ট ডিলিটেড ভোটারকে চেনেন।
শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগের দিন, রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে স্পষ্ট জানান, "২৮ তারিখে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হবে। তারপর কোনও সাপ্লিমেন্টারি তালিকা প্রকাশিত হবে না। শুনানির পরেও যে-নাম নিয়ে এখনও নিষ্পত্তি হয়নি, সেই সব নামের পাশে লেখা থাকবে: UNDER ADJUDICATION, বিচারকেরা এই ৬০ লক্ষ ৬ হাজার ৬৭৫ জনের মধ্যে যতজনকে যোগ্য ভোটার বলে বিবেচনা করবেন, তাঁরা ভোট দিতে পারবেন। এছাড়াও কিছু নাম বাদ পড়বে। সেইসব নামের পাশে লেখা থাকবে ডিলিটেড। ফর্ম-৭-এ যেসব নাম নিয়ে আপত্তি উঠেছে, তা নিয়েও নিষ্পত্তি হবে। ২৮ তারিখের মধ্যে যাঁদের নাম বাদ যাবে, তাঁদের নামের পাশেই লেখা থাকবে ডিলিটেড। বাকি ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীন"।
রবিবার বিকেলে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বৈঠক করে ৬০ লক্ষ বিবেচনাধীনের ভোট-ভবিষ্যৎ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেন। তাঁর বক্তব্য, "বিচারবিভাগীয় আধিকারিক বা বিচারকেরাও তো মানুষ। তাঁদের কাছে তো কোনও জাদুকাঠি নেই। অথবা সফটওয়ার নেই। ৬০ লক্ষ নাম বিবেচনাধীন। খুব বেশি হলে ৫০০ জন বিচারক কাজ করছেন। প্রতিদিনে যদি ২০ থেকে ৩০ টি নাম নিয়ে নিষ্পত্তি করেন, তাহলে খুব বেশি হলে দিনে ১০ থেকে ১৫ হাজার নিষ্পত্তি করা যাবে। আমি না-হয় ২০ হাজার ধরে নিলাম। তাহলে ৬০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তি করতে কত সময় লাগবে? নেই-নেই করে ৪ মাস। মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন লেগে যাবে। তাহলে নির্বাচন হবে কী করে? মে মাসের ৫ তারিখের মধ্যে যদি নির্বাচন প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়, তাহলে মার্চের ২০ তারিখের মধ্যে নির্বাচনের নির্ঘণ্ট প্রকাশ করতে হবে। আজ ১ তারিখ। ২০ দিনের মধ্যে কি ৬০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি সম্ভব?"
অভিষেকের দাবি, বিজেপির একটি অংশ নির্বাচন চায় না। তারা ভালোই জানে, ভোট হলে ভোকাট্টা হয়ে যাবে বিজেপি। তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, "বাংলায় কি ঘুরপথে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির চেষ্টা চলছে"? প্রসঙ্গত, মে-মাসের ৭ তারিখের মধ্যে নতুন সরকার গঠন করতে হবে। তাই, তার আগেই ভোট-পর্ব শেষ করতে হবে। যদি তা না-করা যায়, তাহলে সাংবিধানিক রীতি অনুযায়ী এই সরকার আপনা থেকেই 'পড়ে যাবে' এবং রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হবে। অন্তত তেমনটাই মনে করছে রাজনৈতিক মহল। এমতাবস্থায় অভিষেকের ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য, "পারলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারি করে দেখাক। মানুষ আমাদের সঙ্গেই আছে"।