বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিচারে। এই ২৭ লক্ষ ও নানা কারণে সন্দেহভাজন আরও ৭-৮ লক্ষ নাম নিয়ে নিষ্পত্তি করার কথা ছিল আপিল ট্রাইবুনাল...
বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ৬০ লক্ষের মধ্যে ২৭ লক্ষ নাম বাদ পড়েছিল বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের বিচারে। এই ২৭ লক্ষ ও নানা কারণে সন্দেহভাজন আরও ৭-৮ লক্ষ নাম নিয়ে নিষ্পত্তি করার কথা ছিল আপিল ট্রাইবুনালের। প্রথম দফায় ১৬ টি জেলায় ১৫২ আসনে ভোট হচ্ছে। যদি ধরে নেওয়া যায় এই ১৫২ টি আসনে কমবেশি ১৫ লক্ষ ভোটারের নাম ট্রাইবুনালে নিষ্পত্তির জন্য ঝুলে ছিল, তাহলে তাঁদের মধ্যে মাত্র ১৩৬ জন এবার ভোট দিতে পারবেন। শতাংশের হিসেবে যা শূন্য দশমিক ডট-ডট-ডট!
কী বলছে তৃণমূল-বিজেপি ?
তৃণমূল নেতা জয়প্রকাশ মজুমদারে কথায়, "খানে লক্ষ-লক্ষ নাম নিয়ে নিষ্পত্তি হওয়ার কথা ছিল সেখানে মাত্র ১৩৬ জন ভোট দিতে পারবেন! সুপ্রিম কোর্ট যেভাবে যা নির্দেশ দিয়েছিল, কমিশন তা মানেনি। চোরপুলিস খেলে চলেছে। তবে, বিজেপির কথায় যতই নাম বাদ দেওয়ার চেষ্টা করুক কমিশন, তাতে লাভ হবে না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই আবার জিতে ক্ষমতায় আসবেন। তখন সবাইকে তল্পিতল্পা গুটিয়ে চলে যেতে হবে"
বিজেপি নেতা দেবজিৎ সরকারের প্রশ্ন, "তৃণমূল এত আস্ফালন করছে কেন? তল্পিতল্পা গুটিয়ে কাদের চলে যেতে হবে? ভারতের নির্বাচন কমিশন কাজ করছে। পশ্চিমবঙ্গ কি ভারতের বাইরে? যেন মনে হচ্ছে রাশিয়ার নির্বাচন কমিশন ইউক্রেনে গিয়ে নির্বাচন করছে। আগে আমরা বলতাম বিভাজনের রাজনীতি। এখন তো দেখছি ভারত বিভাজনের রাজনীতি চলছে।"
দায় কি শুধু কমিশনের?
পর্যবেক্ষকদের অনেকেই কিন্তু মনে করিয়ে দিচ্ছেন, সুপ্রিম কোর্টে রাজ্যের শাসকশিবিরের মামলাতেই কিন্তু পুরো প্রক্রিয়া বিচারবিভাগের হাতে চলে যায়। খসড়া তালিকায় কমবেশি ১ কোটি ৩০ লক্ষ নাম লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি-র ক্যাটেগরিতে ছিল। কমিশন ও রাজ্যের আধিকারিকরা মিলে কিন্তু তার মধ্যে কমবেশি ৭০ লক্ষ নামের নিষ্পত্তি করেছিল। সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সশরীরে সওয়াল ও তাঁর আইনজীবীদের সঙ্গে কমিসনের বাগবিতণ্ডার ফলেই কিন্তু প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের এজলাস বাদবাকি ৬০ লক্ষ নাম নিষ্পত্তির ভার বিচারবিভাগীয় আধিকারিকদের হাতে তুলে দেয়। কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির নেতৃত্ব তৈরি কমিটির হাতেই পুরো প্রক্রিয়া চলে যায়। কমিশনের আর কিছু করা থাকে না।
আগে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককে দুদিন আগে এই নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি স্পষ্ট জানান, " ট্রাইবুনাল আমার অধীনে কাজ করছে না। পুরোটাই বিচারবিভাগের হাতে। ওরা যখন যত নাম নিষ্পত্তি করবে তখন সেই মতো তালিকা প্রকাশ করতে প্রস্তুত আছি আমরা"।
প্রসঙ্গত, বর্ষীয়ান কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী সম্প্রতি মন্তব্য করেন, "সবই চলছিল। হঠাৎ দেখলাম মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সুপ্রিম কোর্টে গিয়ে সওয়াল করলেন আর পুরো ব্যাপারটা বিচারবিভাগের হাতে চলে গেল"।