তাহলে কি ভোট প্রচারের কৌশল হিসেবেই বাড়ানো হল 'লক্ষ্মী'র ভাতা ?
দোল, হোলি ও তার কদিনের মাথায় 'বিশ্ব নারী দিবস'। মার্চের প্রথমে সপ্তাহখানেক বাংলার পাড়ায়-পাড়ায় মহিলাদের জন্য একগুচ্ছ কর্মসূচি নিল তৃণমূল কংগ্রেস। এবং, সিদ্ধান্ত নেওয়া হল, "লক্ষ ঘরে গিয়ে প্রচার করবেন 'লক্ষ্মী'রা"।
রাজ্যের মন্ত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের অবশ্য দাবি করলেন, "ভোটের কথা ভেবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু করেননি। এবার যে ভাতা বাড়ানো হল, তা-ও কিন্তু ভোটের কথা ভেবে নয়। এতদিন যা চলছিল, তারই ধারাবাহিকতায় ভাতা বেড়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মহিলাদের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেন। তাই, মহিলাদের স্বনির্ভর করতেই এই উদ্যোগ। "
পর্যবেক্ষকরা অবশ্য মনে করিয়ে দিচ্ছেন, একশের বিধানসভা ভোটের মুখে ঘোষণা করা হয় 'লক্ষ্মীর ভান্ডার' প্রকল্পের কথা। প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়, তৃণমূল সরকার ফের ক্ষমতায় এলে মহিলাদের জন্য প্রতিমাসে এই ভাতা চালু করবে। এবং, এই 'লক্ষ্মী'র প্রতিশ্রুতিতেই ঘরের লক্ষ্মীরা দু-হাতা উপুর করে ভোট দেন তৃণমূলকে। চব্বিশের লোকসভা ভোটের আগে সেই ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বেড়ে দ্বিগুন করা হয়। এবং, ছাব্বিশের বিধানসভার আগে সম্প্রতি লক্ষ্মীর ভাতা আরও ৫০০ টাকা বাড়ে।
'বসন্ত আজ বঙ্গে মহিলাদের সঙ্গে'
এদিন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য 'মহিলাদের জন্য' কর্মসূচি ঘোষণা করে বলেন, "আমাদের দল তৃণমূল কংগ্রেস ও আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সবকিছু নির্বাচনকে কেন্দ্র করেই করেন, তা কিন্তু নয়। তিনি মহিলাদের উন্নয়নে বিশ্বাস করেন। মহিলারা তাঁদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে পারছে। বসন্ত আজ বঙ্গে মহিলাদের সঙ্গে। বসন্তে বাংলার মহিলারা মনের রঙে রঞ্জিত হয়ে আছে। তাই, এই ক্যাপশন দিয়ে মার্চের ৩ তারিখ দোলের দিন, মহিলারা বুথে-বুথে রং খেলবে। পরেরদিন, ৪ তারিখে হোলি। অন্য প্রদেশে দেখি রক্তের হোলি খেলা হয়, আমরা কিন্তু তা করি না। ওইদিন তৃণমূল মহিলা কংগ্রেসের পক্ষ থেকে রক্তদান শিবির হবে রাজ্যজুড়ে। একটি অসাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান, সংবিধানসম্মত হওয়া উচিত ছিল যাদের, তাদের জন্য যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন, তাঁদেরকে স্মরণ করে এই রক্তদান শিবির হবে। আমরা একে বলছি রক্তশ্রদ্ধা"।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, 'অসংবিধানিক প্রতিষ্ঠান' বলতে খুব সম্ভবত নির্বাচন কমিশনকে বোঝাতে চেয়েছেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। এবং 'তাদের' এসআইআর-এর 'জন্য' 'যাঁরা প্রাণ দিয়েছেন' বলে দাবি করা হচ্ছে, তাঁদের স্মরণ করেই এই 'রক্তশ্রদ্ধা' বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহলের একাংশ।
চন্দ্রিমা জানান, "৮ মার্চ মহিলা দিবস। আমরা দুদিন ধরে পালন করবো। ৭ আর ৮ তারিখ। মুখ্যমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানিয়ে মিছিল হবে। তিনিই নারী ক্ষমতায়নে ভরসা। নারী ক্ষমতায়নে দিদিই ভরসা, এই স্লোগান দিয়ে পদযাত্রা হবে। কলকাতায় সুবোধ মল্লিক স্কোয়ার থেকে ডোরিনা ক্রসিং পর্যন্ত মিছিল হবে। কলকাতার বাইরেও মিছিল হবে। এরই সঙ্গে, ৮ তারিখে, রাজ্যের প্রতিটি অঞ্চলে ২০ টি বাড়িতে যাবে মহিলাদের দল, লিফলেট নিয়ে, আমাদের সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের কথা জানিয়ে। ১ দিনে রাজ্যের ১ লক্ষ বাড়িতে যাবে মহিলারা। তাই, লক্ষ ঘরে লক্ষ্মীরা"।