আসন্ন বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা হয়নি এখনও। এরই মধ্যে জেলায়-জেলায় দেওয়ালের দখল নিয়ে দ্বৈরথে নেমেছেন তৃণমূল ও বিজেপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। যদিও কোনও দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বকে ময়দানে নেমে দেওয়াল লিখতে দেখা...
আসন্ন বিধানসভা ভোটের দিন ঘোষণা হয়নি এখনও। এরই মধ্যে জেলায়-জেলায় দেওয়ালের দখল নিয়ে দ্বৈরথে নেমেছেন তৃণমূল ও বিজেপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা। যদিও কোনও দলেরই শীর্ষ নেতৃত্বকে ময়দানে নেমে দেওয়াল লিখতে দেখা যায়নি এখনও পর্যন্ত। এমতাবস্থায়, রবিবাসরীয় সকালে উলুবেড়িয়ায় দলীয় সম্মেলনে এসে দেওয়ালে 'পদ্ম' ফোটালেন বঙ্গবিজেপির অন্যতম নেতা সুকান্ত মজুমদার।
তাহলে কি নির্বাচনী প্রচারে তৃণমূলকে টেক্কা দিয়ে এগিয়ে গেল বিজেপি?
তৃণমূল নেতা, কলকাতার মেয়র ও রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কটাক্ষ, "ওই একটা দেওয়ালই সুকান্ত লিখেছেন। টিভি তে দেখাতে হবে, তাই। বাকি দেওয়াল লেখবার জন্য এজেন্সিকে ভাড়া করতে হবে। দলে তো আর লোক নেই"। এরপর, 'বাঁচতে চাই বিজেপি তাই' স্লোগানের পাল্টা শোনা গেল ফিরহাদের মুখে, "শুনলেও হাসি পায় বিজেপি ভোট চায়"।
পর্যবেক্ষকরা কেউ কেউ মনে করছেন, এ-কথা ঠিকই যে তৃণমূলের মতো মজবুত সংগঠন নেই বিজেপির। কিন্তু, একুশে দুশো আসন টার্গেট করে ৭৭-এ এসে মুখ থুবড়ে পড়ায় শিক্ষা নিয়েছে গেরুয়া শিবির। এবং, দলের সর্বভারতীয় সেনাপতি অমিত শাহ থেকে শুরু করে বঙ্গবিজেপির প্রথম সারির নেতারা তাঁদের কৌশল বদলেছেন। সেই কারণে 'জয় শ্রীরাম'-এর বদলে 'জয় মা কালী' বলে 'বাঙালি' হতে শুরু করেছে দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। নরেন্দ্র মোদীও আর প্রতিটি সভা থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে সম্বোধন করছেন না আগের মতো, "দিদি ও দিদি"। বরং, ব্যক্তি আক্রমণের পথ থেকে সরে গিয়ে সামগ্রিকভাবে বাংলার আইনশঙ্খলা ও শিল্প-বিনিয়োগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন মোদী আর শাহ। 'ঘুসপেটিয়া' নিয়ে তাঁরা বারংবার খোঁচা দিচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে। এমতাবস্থায়, একুশের মতো আত্মতুষ্টিতে না-ভুগে বঙ্গবিজেপি শিবিরকে মাঠে নেমে কঠোর পরিশ্রমের নির্দেশ দিয়েছেন সেনাপতি শাহ। দলের মধ্যে কোণঠাসা হয়ে যাওয়া দিলীপ ঘোষকে ডেকে নিয়ে শাহ বার্তা দিয়েছেন, আদি-নব্যের দ্বন্দ্ব আর নয়, সবাইকে একজোট হতে হবে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, এদিন তারই প্রতিফলন ঘটেছে উলুবেড়িয়ায় সুকান্তর দেওয়াল লিখনে। তবে শুধু সুকান্তই নন, বঙ্গবিজেপির প্রথম সারির নেতৃত্ব পুরোদমে মাঠে নেমে পড়েছে। এমনকি, সস্ত্রীক দিলীপ ঘোষও!