রাজ্যের কমবেশি ৮০ হাজার বুথ রয়েছে এখন। এসআইআর পর্ব শুরুর আগেই কমিশন-সূত্রে জানা গিয়েছিল, এই ৮০ হাজার বেড়ে ১ লক্ষ হবে। শোনা গিয়েছিল, কোনও বুথে ১ হাজারের ভোটার যাতে না-থাকে, সেই উদ্দেশ্যে নিয়েই বুথ...
রাজ্যের কমবেশি ৮০ হাজার বুথ রয়েছে এখন। এসআইআর পর্ব শুরুর আগেই কমিশন-সূত্রে জানা গিয়েছিল, এই ৮০ হাজার বেড়ে ১ লক্ষ হবে। শোনা গিয়েছিল, কোনও বুথে ১ হাজারের ভোটার যাতে না-থাকে, সেই উদ্দেশ্যে নিয়েই বুথ-পুনর্বিন্যাস করা হবে। এর ফলে, ভোটের দিন বুথের সামনে দীর্ঘ লাইন দিতে হবে না ভোটারদের। এবং সেই সঙ্গে নির্বাচনকে অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচন অনেক সহজ হবে।
শেষ মুহূর্তে এই বুথ পুনর্বিন্যাসের সিদ্ধান্ত থেকে পিছিয়ে এল নির্বাচন কমিশন। পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এসআইআর নিয়ে এতই টালবাহানা চলছে রাজ্যে, এতই ঝক্কি-ঝামেলার মধ্যে দিয়ে যেতে হচ্ছে কমিশনকে যে, এই বুথ পুনর্বিন্যাসের কাজে নামার মতো সময় ও লোকবল কোনওটাই নেই। এমতাবস্থায়, ছাব্বিশের বিধানসভার আগে ৮০,৬৮১টি বুথই থাকছে রাজ্যে। তবে পরবর্তীকালে তা বাড়ানো হবে বলেই খবর কমিশন-সূত্রে।
এদিকে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে যাতে নিষ্ক্রিয় করে রাখা না-হয়, তা নিয়ে এখন থেকেই সতর্ক দিল্লির নির্বাচনী সদন। জানা গিয়েছে, সরাসরি ঘটনাস্থলে পাঠাতে হবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে। কোনওভাবেই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে বসিয়ে রাখা যাবে না। এবং সেই মর্মে রাজ্যকে কড়া বার্তা দিয়েছে কমিশন।
প্রসঙ্গত, মার্চেই প্রথম ১০ দিনের মধ্যেই রাজ্যে আসছে ৪৮০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। দুই দফায় বাহিনী আসবে রাজ্যে। ১ মার্চ রাজ্যে আসছে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। ১০ মার্চ আসছে বাকি ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। ৪৮০ কোম্পানি বাহিনীর মধ্যে থাকছে সিআরপিএফ ২৩০ কোম্পানি, বিএসএফ ১২০ কোম্পানি, সিআইএসএফ ৩৭ কোম্পানি, আইটিবিপি ৪৭ কোম্পানি ও এসএসবি ৪৬ কোম্পানি।
গত সোমবার কেন্দ্রীয় বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে বসেছিল নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য পুলিশ প্রশাসন। ওই বৈঠকেই কমিশন প্রশ্ন তুলেছে, ভোটের এতদিন আগে এসে বাহিনী কি বসে থাকবে? কমিশনের নির্দেশ, কেন্দ্রীয় বাহিনী আসা মাত্রই তাদের সরাসরি ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে দিতে হবে। যদিও, কোথায় কত বাহিনী মোতায়েন করা হবে তা নিয়ে অবশ্য চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে ধরে নেওয়া হচ্ছে, স্পর্শকাতর জায়গায় বাহিনীকে পাঠানো হবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর গাড়িতে জিপিএস থাকবে। রাজ্য প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় রেখেই কাজ করবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রশাসন পর্যবেক্ষণ করবে বাহিনীর গতিবিধি। বৈঠকের পর রাজ্য পুলিশের ডিজি জানিয়েছেন, আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে, নির্বিঘ্নেই নির্বাচন হবে।