আরজি কর মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষ। এদিন শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট জোড়া নির্দেশ দিল। সিবিআইকে ফের আরজি কর মামলার তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি ডাক্তারদের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় ...
আরজি কর মামলার দ্বিতীয় দিনের শুনানি শেষ। এদিন শুনানি শেষে সুপ্রিম কোর্ট জোড়া নির্দেশ দিল। সিবিআইকে ফের আরজি কর মামলার তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়ার পাশাপাশি ডাক্তারদের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রককে নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকদের কাজে ফেরার আবেদন সুপ্রিম কোর্টের। ৫ সেপ্টেম্বর আরজি কর মামলার পরবর্তী শুনানি।
আরজি করে তরুণী চিকিৎসকের নৃশংস হত্যার পর থেকেই কর্মবিরতি রেখে আন্দোলন চালাচ্ছে জুনিয়র চিকিৎসকরা। বিচারের দাবিতে লাগাতার প্রতিবাদ, বিক্ষোভ করেছেন চিকিৎসক পড়ুয়ারা। হাসপাতাল চত্বর সুরক্ষিত নন বলে অভিযোগ তোলেন নার্স সহ চিকিৎসকরা। কর্তব্যরত অবস্থায় আরজি কর মেডিক্যাল কলেজের সেমিনার হলে তরুণী চিকিৎসককে ধর্ষণ খুনের ঘটনার তদন্ত ভার দেওয়া হয় সিবিআইয়ের উপর। এদিন শুনানি চলাকালীন ঘটনার টাইম রিপোর্ট নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিচারপতি পরদিওয়ালা। রাজ্য পুলিসের ভূমিকায় বড় গড়মিল রয়েছে বলে ক্ষোভ প্রকাশ করে সুপ্রিম কোর্ট।
বৃহস্পতিবার শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, সিবিআইকে ফের মুখবন্ধ খামে তদন্তের অগ্রগতি সংক্রান্ত সমস্ত স্টেটাস রিপোর্ট জমা দিতে হবে। রাজ্যকে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ, চিকিৎসকদের নিরাপত্তায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে হবে। সারা দেশে ডাক্তারদের সুরক্ষার জন্য কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রক রাজ্যের মুখ্যসচিব ও সমস্ত রাজ্যের ডিজিকে নিয়ে বৈঠক করে সুরক্ষার বিষয়টি সুনিশ্চিত ও চূড়ান্ত করতে হবে বলে জানায় দেশের শীর্ষ আদালত। চিকিৎসা ক্ষেত্রে যাতে কোন রকম ঘটনা না ঘটে, নিরাপত্তা বিঘ্নিত না হয় সে বিষয়ে রাজ্য সরকারকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয় শীর্ষ আদালত।
সেই সঙ্গে জুনিয়র চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে বিচারপতি বলেন, ঘটনার তদন্ত চলবে কিন্তু কর্মবিরতি তুলে কাজে ফিরে আসাতে হবে। সেক্ষেত্রে কর্মবিরতি এবং প্রতিবাদ করার জন্য কোন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের। সেই সঙ্গে রাজ্যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে বাধা দেওয়া যাবে না তা স্পষ্ট ভাষায় জানান প্রধান বিচারপতি চন্দ্রচূড়।
উল্লেখ্য, এদিন সুপ্রিম কোর্টে আরজি কর তদন্তের স্টেটাস রিপোর্ট জমা করে সিবিআই। তাতে সিবিআই জানায়, ঘটনার পাঁচদিন পর তদন্ত ভার পাওয়ায় ঘটনাস্থলের সমস্ত প্রমাণ প্রায় নষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে তদন্তে করতে অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। বহু তথ্য লোপাট হয়ে গিয়েছে বলে অভিযোগ করে সিবিআই।