রাজ্যে প্রাথমিকভাবে এসআইআর-পর্ব সমাপ্ত করে শনিবার চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন। এমতাবস্থায়, বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION)-র মধ্যে কতজন শেষ অবধি ভোট দিতে পারবেন, তা নিয়ে প্রবল সংশয় রাজনৈতিক মহলে। রবিবার সাংবাদিক বৈঠক করে কমিশনের উদ্দেশে ফের তোপ দেগেছেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার কমিশনকে এক-হাত নিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এমতাবস্থায়, বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষের বিস্ফোরক দাবি, "এখনও ৫০ লক্ষ ভুয়ো ভোটার রয়ে গিয়েছে"।
এদিন কালিয়াগঞ্জ থেকে চায়ের ভাঁড়ে চুমুক দিয়ে বেশ খোশ মেজাজেই ছিলেন দিলীপ ঘোষ। পর্যবেক্ষকরা বলছেন, একসময়ে বঙ্গবিজেপিতে কোণঠাসা হয়ে যাওয়া এই নেতা শাহী-আমন্ত্রণে দলে ফের পুরনো জায়গা ফিরে পেয়েছেন। এবং পুরনো মেজাজে খেলতেও শুরু করেছেন। বাংলায় পরিবর্তন চেয়ে মানুষকে কী বার্তা দিচ্ছেন? কালিয়াগঞ্জে সিএন-এর প্রতিনিধির মুখোমুখি হয়ে দৃশ্যতই আত্মপ্রত্যয়ী দিলীপ ঘোষ এই প্রশ্নের উত্তরে বললেন, "এখন তো উল্টো হয়ে গিয়েছে, মানুষ আমাদের বার্তা দিয়ে বলছে, পরিবর্তন চাই"।
এবার এসআইআর নিয়ে প্রশ্ন, ধর্মতলায় মেট্রো চ্যানেলে ধর্নায় বসবেন মুখ্যমন্ত্রী, কী বলবেন? দিলীপের উত্তর, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটা কাজই জানেন, ধর্নায় বসা আর রাস্তায় দাঁড়ানো। বিরোধী ছিলেন যখন, তখন তা-ই করেছেন। সরকারে থেকেও তা-ই করছেন। তিনি অন্য কিছু জানেনও না, পারেনও না। ওই ধর্না দিতে-দিতেই তিনি বিদায় হবেন"।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, বিবেচনাধীন নামের তালিকা যদি আরও দীর্ঘায়িত হয়, আরও নাম যদি ডিলিট করা হয়, তাহলে তিনি জ্ঞানেশ কুমারের নামে এফআইআর করবেন, মামলা করবেন। কী বলবেন? দিলীপের উত্তর, "ওঁরা তো আদালতে গিয়েছিলেন। আদালত যা বলেছে, সেই অনুযায়ী কাজ হয়েছে। এবার তাহলে আদালতের সামনে গিয়ে ধর্না দিন না। হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্টের সামনে বসে পড়ুন। আসলে হতাশ হয়ে এইসব ধমকি দিচ্ছেন ওঁরা। আগে তো বলেছিলেন, এসআইআর করতে দেবেন না। করতে এলে, পা-কেটে দেবেন, গাছে বেঁধে দেবেন। কিন্তু কী করতে পেরেছেন"?
এসআইআর-এর চাপে ফের একজন বিএলও-র মৃত্যু হয়েছে বলে দাবি করছে তৃণমূল, কী বলবেন? দিলীপের দাবি, "তালিকায় ভুয়ো ভোটারের নাম রাখার জন্য বিএলও-দের উপর চাপ দিয়েছেন তৃণমূল নেতারা, বাড়ি ঘেরাও করেছেন, ইট মেরেছেন, তাই ভয়ে আছেন তাঁরা"। এরপরই দিলীপের বিস্ফোরক মন্তব্য, "এখনও প্রায় ৫০ লক্ষ ভুয়ো ভোটার রয়ে গিয়েছে"।
পর্যবেক্ষকরা প্রশ্ন তুলছেন, এই আরও ৫০ লক্ষ কি বিবেচনাধীন (UNDER ADJUDICATION) ক্যাটেগরির অন্তর্গত, নাকি, তারও বাইরে এই ভুয়োর ভূত রয়ে গিয়েছে কোথাও, গা-ছমছম করা অন্ধকারের মধ্যে?