নানুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই বামজমানার নানুর হত্যাকাণ্ডের কথা মনে করালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং, সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দাবি করলেন, "শেষকৃত্যের জন্য একটা সাদা কাপড়ও ছিল না নিহতদের পরিজনদের, তাই ওই সময়...
নানুরের মাটিতে দাঁড়িয়েই বামজমানার নানুর হত্যাকাণ্ডের কথা মনে করালেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এবং, সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে দাবি করলেন, "শেষকৃত্যের জন্য একটা সাদা কাপড়ও ছিল না নিহতদের পরিজনদের, তাই ওই সময় থেকেই আমি সমব্যথী প্রকল্পের কথা ভাবি। মৃত্যুর পর শেষকৃত্যের জন্য যাতে সমস্যা না-হয়"।
পর্যবেক্ষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, বামজমানায় নানুর থানার সূচপুরে ২০০০ সালের ২৭ জুলাই ১১ জন ভূমিহীন কৃষককে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এবং, ওই ঘটনায় সরসারি সিপিআই(এম)-এর নাম জড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীকালে যা নানুর হত্যাকাণ্ড বা সূচপুর হত্যাকাণ্ড বলে কুখ্যাত হয়। ওই সময়ে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন কেন্দ্রের বাজপেয়ী সরকারের রেলমন্ত্রী। এদিন জনসভায় সেই সময়ের কথা মনে করিয়ে দিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বললেন, "আমি খবর পেয়ে দিল্লি থেকে রাজধানী এক্সপ্রেস ধরলাম। ভাবলাম, দুর্গাপুরে নেমে গাড়ি করে বোলপুরে পৌঁছনো যাবে। তাই, দুর্গাপুরে থামল রাজধানী। মন্ত্রী যেখানে নামেন, সেখানে স্টেশন দিতে হয়। তারপর থেকেই রাজধানীর স্টেশন হল দুর্গাপুর। আগে দুর্গাপুরে দাঁড়াত না রাজধানী। দুর্গাপুর থেকে আমি নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কথা বললাম। এত গরিব যে (মৃত্যুর পর) সাদা কাপড়টুকু পর্যন্ত কেনার টাকা ছিল না ওঁদের। আমি ব্যবস্থা করলাম। ওই সময় থেকেই কিন্তু সমব্যথী (মৃত্যুর পর আর্থিক অনুদান) প্রকল্পের কথা আমার মাথায় ঘোরে। যাতে অর্থের অভাবে শেষকৃত্য না-আটকায়"।
এদিন জেলার তৃণমূল প্রার্থীদের একে-একে পরিচয় করিয়ে দিলেন দলনেত্রী। বীরভূম জেলায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মামার বাড়ি। ছোটবেলার স্মৃতিচারণ করে এদিন তৃণমূল নেত্রী বলেন, "প্রতিবার পরীক্ষার পর মাসখানেক এখানে এসে থাকতাম। তাই, আমি ধান কাটতেও পারি, ধান পুঁততেও পারি। আমি আখের ক্ষেতে গিয়ে আখও কেটেছি। আলপথের উপর দিয়ে হেঁটেছি। ধানক্ষেত থেকে শিবমন্দির সর্বত্র আমার বিচরণ ছিল"।