চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। অভিযুক্ত এক গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী তথা তৃণমূল নেতা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে এক কৃষক পরিবারের থেকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়েছিলেন অভ...
চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নামে লক্ষাধিক টাকা আত্মসাতের অভিযোগ। অভিযুক্ত এক গ্রাম পঞ্চায়েত কর্মী তথা তৃণমূল নেতা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকরি দেওয়ার নামে এক কৃষক পরিবারের থেকে ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা হাতিয়েছিলেন অভিযুক্ত অমল কান্তি সরকার। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে গেলেও চাকরি না মেলায় টাকা ফেরতের দাবি করে অভিযোগকারী পরিবার। তখন উল্টে তাঁদেরই হেনস্থা হতে হয় বলে থানায় অভিযোগ জানিয়েছে ওই কৃষক পরিবার।
ঘটনাটি কালিয়াচক থানার গোলাপগঞ্জ এলাকার। অভিযোগকারীর নাম খগেন মণ্ডল, পেশায় কৃষিজীবী। তাঁর দাবি, অভিযুক্ত অমল কান্তি সরকার, যিনি হরিশ্চন্দ্রপুর-১ ব্লকের একটি গ্রাম পঞ্চায়েতের কর্মী এবং তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত, প্রথমে তাঁদের কাছে চাকরি বাবদ ২০ লক্ষ টাকা দাবি করেন। পরে জমি বিক্রি করে নগদ ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা তিনি অভিযুক্তের হাতে তুলে দেন। অভিযোগকারীর দাবি, টাকা দেওয়ার সময় গোপনে একটি ভিডিয়ো রেকর্ড করা হয়েছিল। সেই ভিডিয়ো বর্তমানে সমাজমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
খগেন মণ্ডলের অভিযোগ, টাকা দেওয়া সত্ত্বেও চাকরি দেয়নি অভিযুক্ত। পরে বহুবার টাকা ফেরত চাইলেও তা ফেরত দিতে নাকচ করেন অমল। উল্টে তাঁদের হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর এই ঘটনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালে কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এমতাবস্থায় রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর তিনি ফের জেলা শাসক ও পুলিস প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন। প্রশাসন ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এই ঘটনায় তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, 'প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে দেখুক। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হোক।' অন্যদিকে রাজ্য বিজেপির সদস্য অজিত রায় বলেন, 'আমাদের সরকার কোনও অন্যায় বরদাস্ত করবে না। যদি সরকারি কর্মচারী চাকরি দেওয়ার নামে টাকা নিয়ে থাকেন, তবে তদন্তের মাধ্যমে তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনের কাছে আমরা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।'