আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের পুলিস প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তা সুনিশ্চিত করতে এবার বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। এবং, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় আমলা থেকে শুরু করে পুলিস কর্তাদের অদ...
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে রাজ্যের পুলিস প্রশাসন যাতে নিরপেক্ষভাবে কাজ করে, তা সুনিশ্চিত করতে এবার বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। এবং, সেই লক্ষ্যেই প্রশাসনের শীর্ষস্থানীয় আমলা থেকে শুরু করে পুলিস কর্তাদের অদল-বদল করে দিল্লির নির্বাচন সদন। কলকাতার সিপি থেকে শুরু করে রাজ্যের ডিজিকে অপসারিত করা হয়। এবং, একেবারে শেষ ধাপে এসে, মূলত থানাস্তরে ১৪২ জন ইনস্পেক্টর পদমর্যাদার আধিকারিককে বদল করে কমিশন। ভবানীপুরে মনোয়ননকে ঘিরে অশান্তির ঘটনায় কলকাতা পুলিসের ১ জন ডিসি-সহ মোট ৪জন আধিকারিককে সাসপেন্ডও করা হয়।
এমতাবস্থায়, বিজেপি নেতা অর্জুন সিং সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়ো প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশনকে ট্যাগ করেন। দাবি, নৈহাটি থানার নথিবদ্ধ গাড়ি থেকে নামছেন তৃণমূল নেতা। এমতাবস্থায়, পত্রপাঠ ওই থানার আইসি মহাবীর বেরাকে সাসপেন্ড করে কমিশন।
কী ঘটেছিল?
নৈহাটি পুরসভার চেয়ারম্যান অশোক চট্টোপাধ্যায়কে ব্যারাকপুর চিড়িয়া মোড় থেকে প্রশাসনিক ভবন পর্যন্ত গাড়ি করে পৌঁছে দেওয়ার বন্দোবস্ত করেন আইসি মহাবীর বেরা। সোমবার দুপুরে এই ঘটনাটি ঘটে। দলীয় প্রার্থী সনৎ দে-র মনোনয়ন জমার সময়ে উপস্থিত থাকতেই সেখানে গিয়েছিলেন অশোক চট্টোপাধ্যায়। পুলিসের গাড়ি থেকে তাঁকে নামতে দেখা যায়। দাবি করা হয়, শুধু তিনিই নন, তাঁর সঙ্গে আরও একজন তৃণমূল নেতা পুলিসের গাড়ি থেকে নামেন। বিজেপি নেতা অর্জুন সিং সেই ভিডিয়ো পোস্ট করে নির্বচন কমিশনকে ট্যাগ করেন। এবং, পত্রপাঠ সাসপেন্ড করা হয় নৈহাটি থানার আইসিকে।
কমিশনের পদক্ষেপে মর্মাহত অশোক চট্টোপাধ্যায় বলেন, "আমি নিজের গাড়িতেই আসছিলাম। এসডিও অফিসের আগে আমাকে আটকে দেওয়া হয়। আমার বয়স ৭৬। ওই রোদের মধ্যে যাতে হেঁটে যেতে না-হয়, সেই কারণেই মানবিকতার খাতিরে আইসি একজন চালককে দিয়ে ওই গাড়িটি পাঠান। আমি ওই গাড়িতে উঠে এসডিও অফিস পর্যন্ত যাই। আমার মর্মাহত, আমার জন্য আইসি-কে সাসপেন্ড হতে হল। রাস্তায় কোনও লোক পড়ে থাকলেও তো পুলিস সাহায্য করে। নইলে আমরাই বলি, পুলিসের মানবিকতা নেই। তাছাড়া কতটুকু পথই-বা পুলিসের গাড়িতে চেপে গিয়েছি? মেরেকেটে ৩০০ মিটার"।
এমতাবস্থায় প্রশ্ন উঠছে তিন জায়গায়। প্রথমত, দূরত্ব যদি মাত্র ৩০০ মিটার হয়, তাহলে ওই টুকু পথ হাঁটা গেল না কেন? দলীয় প্রার্থীর মনোনয়ন জমা দিতে যাচ্ছেন যিনি, একটি পৌরসভার চেয়ারম্যানের পদে রয়েছেন যিনি, ওই ৩০০ মিটার পথ হাঁটতেই কেন বয়সকে ঢাল করতে হচ্ছে ? দ্বিতীয়ত, যদি এমনটাই হতো যে, পুলিসের ওই গাড়ি পাশ দিয়েই যাচ্ছিল তখন, তাহলে না-হয় মানবিকতার যুক্তি কিছুটা হলেও ধোপে টিকতো। এক্ষেত্রে কিন্তু তা ঘটেনি। 'খবর পেয়ে' চালক-সহ থানার গাড়ি পাঠিয়ে দিয়েছেন আইসি! তৃতীয়ত, শুধু অশোক চট্টোপাধ্যায়ই নন, ওই গাড়ি থেকে আরও একজন তৃণমূল নেতাকে নামতে দেখা গিয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। এমতাবস্থায় বিরোধীদের বক্তব্য, পুলিসের নিরপেক্ষতার প্রশ্ন তো অনেক পরে, গাড়ি, গাড়ির তেল, চালক, সব খরচাই কিন্তু সরকার দেয়, তৃণমূল কংগ্রেস নয়।