বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকে নতুন করে গঠিত তৃণমূল কংগ্রেস-এর ব্লক কমিটিকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ব্লক কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে এক ভিলেজ পুলিসকে। বিষয়টি সামনে আসতেই সর...
বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকে নতুন করে গঠিত তৃণমূল কংগ্রেস-এর ব্লক কমিটিকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অভিযোগ, ব্লক কমিটির সাধারণ সম্পাদকের পদ দেওয়া হয়েছে এক ভিলেজ পুলিসকে। বিষয়টি সামনে আসতেই সরব হয়েছে বিজেপি নেতৃত্ব।
শুক্রবার সিমলাপাল ব্লক তৃণমূলের নতুন কমিটি প্রকাশ করা হয়। সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া তালিকায় ৮৪ জন পদাধিকারীর নাম রয়েছে। ওই তালিকায় সিমলাপাল থানার বিক্রমপুর অঞ্চলের ভিলেজ পুলিস মধুসূদন কর্মকারের নামও দেখা যায় সেই তালিকায়। তাঁকে ব্লকের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দাবি।
বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ওই ভিলেজ পুলিসকে এর আগেও শাসকদলের একাধিক দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে দেখা গিয়েছে। তাঁদের প্রশ্ন একজন ভিলেজ পুলিস কীভাবে সরাসরি একটি রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকতে পারেন ? দলের তরফে আরও অভিযোগ, “নিশ্চয়ই প্রভাবশালী মহলের মদত ছাড়া এমনটা সম্ভব নয়।”
তালডাংরা ৩ নম্বর মণ্ডলের বিজেপি সভাপতি সৌভিক পাত্র বলেন, "এই রাজ্যে তৃণমূল ও পুলিস একাকার ,প্রকাশিত তালিকা আবার সেটাই প্রমাণ করল। তৃণমূল মানেই পুলিস, পুলিস মানেই তৃণমূল। তিনি আরও দাবি করেন, ২০১২ সালে তৃণমূলের প্রভাব খাটিয়েই ওই ব্যক্তি ভিলেজ পুলিসের চাকরিতে যোগ দেন।"
সাংবাদিকদের প্রশ্নে মধুসূদন কর্মকার নিজেই জানান, "তিনি বিক্রমপুর অঞ্চলের ভিলেজ পুলিস এবং পাশাপাশি তৃণমূলের ব্লক কমিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। ২০০৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত বিক্রমপুর অঞ্চল যুব সভাপতির দায়িত্বেও ছিলেন। আগামী বিধানসভা নির্বাচনে দলের হয়ে এমন কাজ করবেন যাতে আগের থেকেও ভালো ফল হয়। এতে অসুবিধার কী আছে ?”
পাল্টা বক্তব্য, সিমলাপাল ব্লক সভাপতি সৌমেন পাত্রের, তিনি বলেন, "মধুসূদন দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে যুক্ত। অতীতে যুব সভাপতির দায়িত্ব সামলেছেন। তাই দল তাঁকে যোগ্য মনে করে দায়িত্ব দিয়েছে।”
অন্যদিকে তালডাংরার তৃণমূল বিধায়ক ফাল্গুনী সিংহবাবু জানান, “তালিকা এখনও হাতে পাইনি। নাম থাকলে ব্লক সভাপতির সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের অনুরোধ জানাব।”
ভিলেজ পুলিসের মতো প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির রাজনৈতিক পদপ্রাপ্তি ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও। ফলে শাসক দল ও প্রশাসনের সম্পর্ক নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর শুরু হয়েছে এলাকায়।